অশ্রু আর বীজ
-মতি গাজ্জালী
রুমালটা এগিয়ে দিয়েছ-- হুম, বেশ করেছ--জানো কী, রুমালের জল-শোষণশক্তি কতোটা?
সবকটা অশ্রুবিন্দু মুছে দিতে পারবে? অশ্রুর উৎস কোথায়, জানো?
মানো বা নাই মানো-- মানসসরোবর শুকাতে যদি নাই-বা পারো
কারো দুচোখের অশ্রু রুমাল কিংবা টিস্যুতে মুছে ফেলা যায় না--
বীজ দেখেছ না? সারাবছর কিষাণ শুকিয়ে রাখে ভাণ্ডে ভরে,
মওসুমে বীজ বুনে, মাটি, জল আর আলোর ছোঁয়ায় ফসল হয়ে ওঠে--
ঠোঁটে কী মিষ্টিমধুর হাসি ফোটে কিষান-কিষানীর ঘরে--
মানুষের মানসসরোবরে রুমাল কিংবা টিস্যুর স্পর্শ পৌঁছে না,
অশ্রু তখন শুকনো বীজ হয়ে যায়, বীজ মরে না, নিষ্ফলা হয় না--
সময়ের জমিনে মাটি জল আর আলোর দেখা পেলেই অঙ্কুরিত হয় বীজ--
হয়তো বটের বীজ কিংবা ধান গম অথবা অন্যকিছুর বীজ--
বটের ছায়া কিংবা ফসলের মায়া কেবলই পারে মুছে দিতে
মানুষের ভেতরে লুকানো সাতসমুদ্দুরের বিশাল জলরাশি--
সেদিন হাসি ফোটে, প্রভাত আলো লুটিয়ে পড়ে ঘরের দাওয়ায়,
পাখিরা শিস দেয়, গান গায়, মানুষ আনন্দে মেতে ওঠে,
কোমল আলো ছড়িয়ে পড়ে বনবীথির পাতায় পাতায়, হৃদয়ের খাতায়--
তখন এক কান্নার জন্ম হয়--সেদিন রুমাল আর টিস্যুর হয় পরাজয়--
এই যে বুকটা দেখ, এখানেই দু'টো কান্নার জল পায় আশ্রয়-
নিউজ বাংলা চ্যানেল