
নিজস্ব প্রতিবেদক
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নতুন করে কোনো সামরিক হামলা চালানো হলে তাৎক্ষণিক পাল্টা জবাব দিতে ‘সর্বোচ্চ প্রতিরোধ’ পরিকল্পনা প্রস্তুত রেখেছে ইরান। সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে তা হালনাগাদ করছে দেশটির সামরিক বাহিনী। একই সঙ্গে সম্ভাব্য হামলার জবাবে আরও বিস্তৃত ভৌগোলিক এলাকায় পাল্টা আঘাত হানার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করা হচ্ছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালির কাছে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা, ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সামরিক কার্যক্রমে ইরান ও হিজবুল্লাহর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে দুটি অজ্ঞাত বস্তু আঘাত হেনেছে। এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছিল, অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় নৌমাইনে আঘাত লেগে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে এসব ঘটনার প্রকৃত কারণ ও বিস্তারিত বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইসরায়েলকে দেওয়া বছরে প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধ করা হবে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কয়েক মাস আগেই এ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
ট্রাম্পের এমন ঘোষণার পর ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। দেশটির বিরোধী দলের নেতারা নেতানিয়াহুর সমালোচনা করে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের সিদ্ধান্তকে তাঁর আরেকটি ব্যর্থতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
এদিকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার অভিযোগ করেছে, ইরানের আইআরজিসি ও লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর ২১ জন সামরিক বিশেষজ্ঞ হুথিদের সামরিক কার্যক্রমে সহায়তা করছেন। ইয়েমেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইব্রাহিম হাইদানের দাবি, এসব বিশেষজ্ঞের মধ্যে আইআরজিসির ১৪ জন এবং হিজবুল্লাহর সাতজন সদস্য রয়েছেন।
তাঁরা ইয়েমেনে হুথিদের সামরিক অভিযান পরিকল্পনা ও পরিচালনা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সামরিক কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করছেন বলে অভিযোগ করেছে ইয়েমেন সরকার।
তবে ইরান দীর্ঘদিন ধরেই হুথিদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। একইভাবে হুথিরাও নিজেদের ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো গোষ্ঠী হিসেবে পরিচয় দিতে নারাজ।
সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল উত্তেজনা এবং ইয়েমেনে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে।
তথ্যসূত্র: আলজাজিরা।