
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি তেল পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালীতে নৌ-মাইনের বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত তিনটি তেলবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর মধ্যে একটি সুপারট্যাঙ্কারও রয়েছে। এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথে জ্বালানি তেল পরিবহন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নির্ধারিত নৌপথের নিয়ম অমান্য করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় চলাচলের সময় জাহাজগুলো বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের মুখে পড়ে। রেডিও বার্তা ও সামুদ্রিক সতর্কতা উপেক্ষা করে এবং ট্র্যাকিং ব্যবস্থা বন্ধ রেখে চলাচলের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
ইরানের মূল নৌবাহিনীও পৃথক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর পূর্বাঞ্চলে নিষিদ্ধ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় চলাচলের সময় দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার নৌ-মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে জাহাজগুলোর নাম, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, একই সময়ে হরমুজ প্রণালীর পূর্বাঞ্চলে ইরানের নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় প্রবেশ করা একটি শত্রুভাবাপন্ন চালকবিহীন নৌযান বা ড্রোন বোট শনাক্ত করে ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পণ্য পরিবহন করা হয়। ফলে এ অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং নৌ-মাইনের উপস্থিতির খবর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, তেলবাহী জাহাজের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে ঘটনাগুলোর স্বাধীন যাচাই, জাহাজগুলোর পরিচয় এবং প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
সূত্র: আল জাজিরা।