
নিজস্ব প্রতিবেদন
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৭৭.৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ১৯৯৯ সালের পর দেশটির সংসদীয় নির্বাচনে সর্বোচ্চ। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৫৬ লাখ ৯০ হাজারের বেশি ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। বিশেষ করে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের মধ্যে বেশি ভোটদানের প্রবণতা ডানপন্থী রাজনৈতিক শিবিরে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রায় ৭৩ লাখ ৩০ হাজার যোগ্য ভোটারের মধ্যে ৫৬ লাখ ৯০ হাজারের বেশি ভোট দিয়েছেন। ২০২২ সালের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭০.৬৩ শতাংশ। সে তুলনায় এবার উপস্থিতি বেড়েছে প্রায় ৭.১ শতাংশ পয়েন্ট। ১৯৯৯ সালের নির্বাচনে ভোটদানের হার ছিল ৭৮.৭ শতাংশ।
ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির আরব সম্প্রদায়ের মধ্যে ভোটদানের হার প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে। ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ ফিলিস্তিনি নাগরিক। তাঁদের ব্যাপক অংশগ্রহণ নির্বাচনের রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভোটার উপস্থিতি বাড়ায় কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ ডানপন্থী সমর্থকদের শেষ মুহূর্তে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আরব সম্প্রদায়ের ভোটদানের হারকে ‘নজিরবিহীন’ উল্লেখ করে আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এর ফলে ‘বিপজ্জনক বামপন্থী সরকার’ ক্ষমতায় আসতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, ‘হতাশ হবেন না! এখনো জেতা সম্ভব।’
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও সমর্থকদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, বামপন্থী ও ফিলিস্তিনি নাগরিকদের মধ্যে ভোটদানের হার বেশি। এ পরিস্থিতিতে ডানপন্থী সমর্থকদেরও ব্যাপকভাবে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে। নির্বাচনের আগে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ভোটদানের সম্ভাবনা নিয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন নেতানিয়াহু।
অন্যদিকে, আরব নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা অভিযোগ করেছেন, ডানপন্থী নেতারা ফিলিস্তিনি নাগরিকদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন এবং তাঁদের ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ফিলিস্তিনি প্রার্থী আহমদ তিবিও দাবি করেছেন, ফিলিস্তিনি নাগরিকেরা নজিরবিহীন সংখ্যায় ভোট দিচ্ছেন।
নেতানিয়াহু ও তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকট আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। তবে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে আরব দলগুলোর সমর্থনে সংখ্যালঘু সরকার গঠনের সম্ভাবনাও রাজনৈতিক আলোচনায় রয়েছে। ফলে নির্বাচনের ফলাফলের পাশাপাশি সরকার গঠনের সমীকরণও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এদিকে, ভোটকেন্দ্রে দীর্ঘ অপেক্ষা ও বিলম্বের কারণে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ভোটাধিকার প্রয়োগ বাধাগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ তুলেছে ইসরায়েলের নাগরিক অধিকার সংস্থা (এসিআরআই)। সংস্থাটি কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির কাছে অভিযোগ করে জানিয়েছে, অন্তত ১৮টি এলাকায় ভোট দিতে দীর্ঘ বিলম্বের খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনা ইচ্ছাকৃত কি না, তা তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে তারা।
নেগেভ মরুভূমির একটি ভোটকেন্দ্রে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও ন্যাশনাল গার্ড সদস্যের উপস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি। ভিড় নিয়ন্ত্রণের নামে ভোটারদের কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে তারা।
সব মিলিয়ে, রেকর্ডসংখ্যক ভোটার উপস্থিতি, আরব সম্প্রদায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সরকার গঠনের সম্ভাব্য জটিল সমীকরণ এবারের ইসরায়েলি নির্বাচনকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।