
নিজস্ব প্রতিবেদন
চীনের তিব্বতের পার্বত্য অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। বৃহস্পতিবার রাতে তিব্বতের নাগচু অঞ্চলের বাৎসেন কাউন্টিতে এ ভূমিকম্প আঘাত হানে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
সিনহুয়ার প্রতিবেদনে স্থানীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা ব্যুরোর বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়া অন্তত ৩৩৯টি বাড়ি ধসে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা চালাতে ইতোমধ্যে উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে।
তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত বাৎসেন কাউন্টি। দুর্গম ও উঁচু পার্বত্য এলাকায় ভূমিকম্পের ফলে পাথরধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকটি সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকর্মীদের পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে। দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা ও প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতার কারণে উদ্ধার তৎপরতা আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
ভূমিকম্পের তীব্র কম্পন তিব্বতের কামদো ও নিংচি শহরেও অনুভূত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, গভীর রাতে ভবনগুলো প্রবলভাবে কাঁপতে থাকায় আতঙ্কিত গ্রামবাসীরা ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসছেন। তবে এসব ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত তিব্বত ও এর আশপাশের পার্বত্য এলাকাগুলোতে প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে। এর আগে ২০২৩ সালে চীনের গানসু প্রদেশের পার্বত্য এলাকায় ৬ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পে ১২০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ওই ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বহু মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন।
এদিকে, দুই মাসেরও কম সময় আগে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে তিব্বত ও নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ওই দুর্যোগে অন্তত ১ হাজার ৪০০ জনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছিল। এ ছাড়া শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলেও সে সময় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সর্বশেষ ভূমিকম্পে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে কি না, তা নির্ভর করছে দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধার তৎপরতা ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়ার ওপর।