
নিজস্ব প্রতিবেদক
দীর্ঘদিনের অনিয়ম-দুর্নীতি, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, ঋণ জালিয়াতি, অর্থ পাচারের অভিযোগ এবং বড় প্রকল্পের ব্যয় নিয়ে বিতর্কের জেরে বাংলাদেশের অর্থনীতি গভীর চাপের মুখে পড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে স্থবিরতা, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, রাজস্ব আদায়ে দুর্বলতা এবং কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ। একদিকে ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি কমছে, অন্যদিকে নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠছে। ফলে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকারের কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা ক্রমেই বাড়ছে।
অর্থনীতির এই সংকটের পেছনে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সংঘটিত অনিয়ম-দুর্নীতি, ব্যাংক লুটপাট, ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা সমুদ্রবন্দর ও ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো বড় প্রকল্পের ব্যয় নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন। এসব প্রকল্পের প্রকৃত ব্যয়, অর্থের ব্যবহার এবং সম্ভাব্য অনিয়মের অভিযোগের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ মূল্যায়ন অর্থনৈতিক জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের শাসনকাল পেরিয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা, বিনিয়োগের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রত্যাশা তৈরি হলেও অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে এখনো চাপ রয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছে। তবে এই লক্ষ্য অর্জনে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেসরকারি বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের উদ্যোগ, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্যসেবায় ই-হেলথ কার্ড এবং শিক্ষার্থীদের সহায়তার মতো কর্মসূচির কথা সামনে এসেছে। এসব উদ্যোগের পাশাপাশি অর্থনীতির সামগ্রিক পুনরুদ্ধারে রাজস্ব আয় বাড়ানো, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা, শিল্পের উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য কার্যকর কর্মপরিকল্পনা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থাগুলোর অর্থনৈতিক পূর্বাভাস বাংলাদেশের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জকে আরও স্পষ্ট করছে। প্রতিবেদনে উল্লেখিত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের পূর্বাভাসেও অর্থনীতির গতি নিয়ে উদ্বেগের চিত্র উঠে এসেছে। তবে এসব পূর্বাভাসের প্রকাশকাল, অর্থবছর এবং সংশোধিত হিসাব যাচাই করে সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান উল্লেখ করা প্রয়োজন।
প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া এবং মূল্যস্ফীতি উঁচু অবস্থানে থাকলে তার প্রভাব পড়ে কর্মসংস্থান, ব্যবসা সম্প্রসারণ ও মানুষের প্রকৃত আয়ের ওপর। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ক্ষেত্রে আয় বৃদ্ধির তুলনায় ব্যয় বেশি হারে বাড়লে সঞ্চয় কমে যায়, ভোগব্যয় সংকুচিত হয় এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার বিক্রিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, আয় সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণও গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থনীতির অন্যতম বড় উদ্বেগ এখন কর্মসংস্থান। বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন কমে যাওয়া, ব্যবসা সম্প্রসারণে অনীহা এবং নতুন বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে যাওয়ায় চাকরির বাজারে চাপ বাড়ছে। কিছু প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বেতন পরিশোধে সমস্যায় পড়ছে বলে খাতসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। অন্যদিকে, জীবিকার তাগিদে অনেক শ্রমিক আগের তুলনায় কম বেতনে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি প্রকৃত মজুরি ও জীবনযাত্রার মান নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক, পরিবহনশ্রমিক, ব্যবসায়ী ও কৃষকদের বিক্ষোভের খবরও সামনে এসেছে। বেতন বৃদ্ধির দাবিতে গার্মেন্ট শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, গ্যারেজভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকদের আন্দোলন এবং সারসংকট নিয়ে কৃষকদের বিক্ষোভের মতো ঘটনাগুলো স্থানীয় পর্যায়ে অর্থনৈতিক চাপের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে প্রতিটি ঘটনার কারণ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি, আয় কমে যাওয়া এবং অনিশ্চিত কর্মসংস্থানের কারণে পরিবারগুলোর ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে উঠছে। অর্থনৈতিক চাপ দীর্ঘস্থায়ী হলে সামাজিক অসন্তোষ, ঋণগ্রস্ততা ও অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। এ কারণে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের তাৎক্ষণিক দুর্ভোগ লাঘবের ব্যবস্থাও জরুরি।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র আবাসন শিল্প। কিন্তু উচ্চ কর, ব্যাংকঋণের সুদহার, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি এবং ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে খাতটি চাপে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) ও খাতসংশ্লিষ্টদের বরাত দিয়ে প্রাপ্ত তথ্যে বলা হয়েছে, আবাসন শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবিকা জড়িত। ফ্ল্যাট বিক্রি ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার যে দাবি করা হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট সময়কাল ও বাজারভিত্তিক তথ্য দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন।
আবাসন খাতের প্রভাব শুধু ভবন নির্মাণে সীমাবদ্ধ নয়। রড, সিমেন্ট, ইট, বালু, টাইলস, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, পরিবহন, প্রকৌশল, নকশা, শ্রমিক সরবরাহ ও আর্থিক সেবাসহ বহু সহযোগী শিল্প এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। আবাসন প্রকল্প কমে গেলে এসব খাতেও চাহিদা কমে যায়। এতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি কমে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, আবাসন শিল্পে নীতিগত সহায়তা, করব্যবস্থার যৌক্তিকীকরণ, দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং নির্মাণসামগ্রীর বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। পাশাপাশি মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা গেলে সামাজিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়তে পারে।
ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদের বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে বিনিয়োগের স্থবিরতা, জ্বালানি সংকট, রাজস্ব আয়ের চাপ এবং খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির মতো সমস্যার মুখোমুখি। তাঁর মতে, অর্থনৈতিক সূচকগুলোর উন্নতি না হলে মূল্যস্ফীতি, দারিদ্র্য ও বেকারত্বের চাপ আরও বাড়তে পারে। তিনি পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে প্রথমেই সরকারের রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে। করের আওতা সম্প্রসারণ, কর ফাঁকি বন্ধ, কর প্রশাসনে স্বচ্ছতা এবং অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে রাজস্ব ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা সম্ভব। একই সঙ্গে সরকারি অর্থের অপচয় ও দুর্নীতি বন্ধ করে উন্নয়ন ব্যয়ের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে।
উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ। কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, রপ্তানিমুখী উৎপাদন, তথ্যপ্রযুক্তি, পর্যটন ও আবাসন খাতে নতুন বিনিয়োগ উৎসাহিত করা গেলে কর্মসংস্থান বাড়তে পারে। তবে এসব উদ্যোগের সুফল পেতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ, সহজ ঋণপ্রাপ্তি, নীতির ধারাবাহিকতা এবং ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানো প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নিজস্ব অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও সংস্কার কৌশল নিয়ে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনায় ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও দারিদ্র্য কমানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
উপদেষ্টার ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের কৌশল এবং অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে এসব বক্তব্য ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর অবস্থান প্রকাশিত মূল বিবৃতি বা সাক্ষাৎকারের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হলেও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই পুনরুদ্ধারের জন্য দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, আর্থিক খাতে সুশাসন এবং বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন অপরিহার্য।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক মুহা. মিজানুর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, কর্মসংস্থানের অভাব, মূল্যস্ফীতি ও যুবসমাজের জন্য সীমিত সুযোগ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলছে। দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সামাজিক সমস্যাও বাড়াতে পারে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের বিষয়ে উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ড. মোস্তফা কে মুজেরীর বক্তব্যেও রাজস্ব আয় বাড়ানো, অপ্রয়োজনীয় ঋণনির্ভর ব্যয় সীমিত রাখা এবং দুর্নীতি ও অর্থের অপচয় বন্ধ করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের আলোকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে কয়েকটি পদক্ষেপ বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে—
১. জরুরি কর্মসংস্থান কর্মসূচি: শ্রমঘন শিল্প, ক্ষুদ্র ব্যবসা, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণে দ্রুত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি।
২. আবাসন ও শিল্পে বিনিয়োগ পুনরুজ্জীবন: কর ও ঋণনীতির বাস্তবসম্মত সংস্কার, নির্মাণ ব্যয় কমানোর উদ্যোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
৩. ব্যাংকিং খাতে সুশাসন: খেলাপি ঋণ আদায়, ঋণ জালিয়াতির তদন্ত, অর্থ পাচারের অভিযোগের অনুসন্ধান এবং ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা।
৪. দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ: সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখা, বাজারে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা, মজুতদারি ও কারসাজি প্রতিরোধ এবং দরিদ্র পরিবারের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা বাড়ানো।
৫. রাজস্ব ও ব্যয় ব্যবস্থাপনায় সংস্কার: কর ফাঁকি কমানো, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় পর্যালোচনা এবং উৎপাদনশীল খাতে সরকারি অর্থের ব্যবহার নিশ্চিত করা।
৬. রপ্তানি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তা: সহজ অর্থায়ন, বাজার সম্প্রসারণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ব্যবসা শুরুর প্রশাসনিক জটিলতা কমানো।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের চ্যালেঞ্জ বহুমাত্রিক। শুধু সামাজিক সহায়তা বা বিচ্ছিন্ন কিছু প্রকল্প দিয়ে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন রাজস্ব, ব্যাংকিং, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও বাজার ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত সংস্কার। পাশাপাশি সরকারের ঘোষিত কর্মসূচিগুলোর বাস্তবায়ন, ব্যয়ের স্বচ্ছতা এবং ফলাফল নিয়মিত প্রকাশ করা জরুরি।
অর্থনীতির সুফল যখন সাধারণ মানুষের আয়, কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রায় দৃশ্যমান হবে, তখনই পুনরুদ্ধারের উদ্যোগের কার্যকারিতা স্পষ্ট হবে। তাই দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্যের পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, নতুন চাকরি সৃষ্টি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফেরানো এখন নীতিনির্ধারকদের সামনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার।