
নিজস্ব প্রতিবেদন
আবুধাবি টেস্টে জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত হতাশ হতে হলো বাংলাদেশকে। আফগানিস্তানের অবিশ্বাস্য প্রতিরোধে রোমাঞ্চকর ড্রয়ে শেষ হয়েছে সিরিজের একমাত্র টেস্ট। তবে ম্যাচের হতাশার মধ্যেও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশের উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন দাস। নিজের ৩২তম জন্মদিনে উইকেটের পেছনে ৯টি ডিসমিসাল এবং ব্যাট হাতে সেঞ্চুরি ও ফিফটি করে গড়েছেন বিশ্বরেকর্ড।
একই টেস্টে উইকেটকিপিংয়ে ৯টি ডিসমিসালের পাশাপাশি সেঞ্চুরি ও ফিফটি করা প্রথম ক্রিকেটার এখন লিটন। ইকরাম আলিখিলের ক্যাচটি নেওয়ার মধ্য দিয়ে দেড় শতাব্দীর টেস্ট ইতিহাসে অনন্য এই কীর্তি গড়েন তিনি। এর আগে ১৯৬৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার ডেনিস লিন্ডসে ৬৯ ও ১৮২ রান করার পাশাপাশি উইকেটকিপিংয়ে ৮টি ডিসমিসাল করেছিলেন।
আফগানিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে লিটনের অবদান ছিল চারটি ক্যাচ। প্রথম ইনিংসে একটি দুর্দান্ত স্টাম্পিংয়ের পাশাপাশি চারটি ক্যাচ নেন তিনি। ব্যাট হাতেও ছিলেন দুর্দান্ত। প্রথম ইনিংসে ৫৩ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ১০২ রান। সব মিলিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কারও উঠেছে তাঁর হাতে।
এর আগে এক টেস্টে বাংলাদেশের উইকেটকিপার হিসেবে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের রেকর্ড নিজের করে নেন লিটন। ২০০৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৭টি ডিসমিসাল নিয়ে এত দিন রেকর্ডটির মালিক ছিলেন খালেদ মাসুদ পাইলট। লিটন সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে যান আগের দিনই।
বিশ্ব রেকর্ডের আরেকটি মাইলফলক ছোঁয়ার সুযোগও ছিল তাঁর সামনে। এক টেস্টে সর্বোচ্চ ১১টি ডিসমিসালের রেকর্ড রয়েছে ইংল্যান্ডের জ্যাক রাসেল, দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স ও ভারতের ঋষভ পন্তের। আরও তিনটি ডিসমিসাল নিতে পারলে লিটন এককভাবে সেই রেকর্ডের মালিক হতে পারতেন। তবে আফগানিস্তানের শেষ দিকের ব্যাটারদের দৃঢ়তায় তা আর সম্ভব হয়নি।
শেষ দিনে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল আফগানিস্তানের বাকি সাতটি উইকেট। অন্যদিকে ৪৭৯ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে আগের দিন ৩ উইকেট হারিয়ে ১৩২ রান করা আফগানিস্তানের প্রয়োজন ছিল আরও ৩৪৭ রান। বাস্তবতা বিবেচনায় জয় নয়, ড্র বাঁচানোই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য। শেষ পর্যন্ত সেই লক্ষ্য পূরণ করে সফরকারীরা।
সেদিকউল্লাহ আতালের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি এবং লোয়ার অর্ডারের দৃঢ়তায় ১৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান করে ইনিংস শেষ করে আফগানিস্তান। আতাল করেন ১১১ রান। কাইস আহমাদ ৮০ বলে তিন ছক্কা ও ছয় চারে ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন। জিয়া-উর-রেহমান ১২ বল খেলে শূন্য রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচ শেষ করেন।
পঞ্চম দিনে বাংলাদেশের বোলাররা খুব বেশি সুবিধা করতে পারেননি। তিন স্পিনারও উইকেট থেকে প্রত্যাশিত টার্ন আদায় করতে পারেননি। এরপরও জয়ের সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে। কিন্তু শেষ ঘণ্টায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হয়। ১২২তম ওভারে দুটি রানআউটের সুযোগ নষ্ট করে বাংলাদেশ। পরে হাসানের হাতে আসে সহজ ক্যাচের সুযোগ, সেটিও কাজে লাগানো যায়নি। ওই সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচের ফল ভিন্ন হতে পারত।
অন্যদিকে, আফগানিস্তানের ব্যাটিং দৃঢ়তা ছিল প্রশংসনীয়। টেস্টের শেষ দিনজুড়ে চাপ সামলে উইকেটে টিকে থেকে ম্যাচ ড্র করা সহজ কাজ নয়। সেদিকউল্লাহ আতালের সেঞ্চুরির পাশাপাশি লোয়ার অর্ডারের ব্যাটারদের লড়াকু মনোভাবই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে জয়বঞ্চিত করে।
ম্যাচ শেষে হতাশা প্রকাশ করলেও প্রতিপক্ষের প্রশংসা করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনি বলেন, ‘হতাশাজনক, তবে আফগানিস্তান দারুণ ক্রিকেট খেলেছে। আমরা সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি। পেসাররা খুব ভালো বোলিং করেছে। আশা করেছিলাম, স্পিনাররাও ম্যাচে প্রভাব ফেলবে। তারা চেষ্টা করেছে, তবে আফগানিস্তান সত্যিই অসাধারণ খেলেছে।’
বাংলাদেশ: প্রথম ইনিংস ৩৪৬, দ্বিতীয় ইনিংস ৩৭২/৭ ডিক্লেয়ার।
আফগানিস্তান: প্রথম ইনিংস ২৪০, দ্বিতীয় ইনিংস ১৪২ ওভারে ৩৪৬/৮ (সেদিকউল্লাহ আতাল ১১১, হাসমতউল্লাহ শাহিদি ৩৬, ইকরাম আলিখিল ৩৩, কাইস আহমাদ ৪৯*, জিয়া-উর-রেহমান ০*)।
বাংলাদেশের বোলিং: ইবাদত হোসেন ৩/৫০, মেহেদী হাসান মিরাজ ৩/৭৩, হাসান মাহমুদ ১/৬৬, তাইজুল ইসলাম ১/১১২, নাঈম হাসান ০/২৯।
ফল: ম্যাচ ড্র।