
নিজস্ব প্রতিবেদন
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন না বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর পরিবর্তে বাংলাদেশের চার সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এ বৈঠকে আঞ্চলিক সন্ত্রাসবাদ, আন্তসীমান্ত অপরাধ দমন এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ছাড়া বিমসটেকের অপর ছয় সদস্যদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা বৈঠকে অংশ নেবেন। মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের আগে ১২ অক্টোবর সদস্যদেশগুলোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসবেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এর আগের দিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠক পরিচালনা করবেন ভারতের স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন।
বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে ভুটানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুংতেন দর্জি, মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেনারেল কো কো ও, নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং, শ্রীলঙ্কার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চন্দনা আবেরতেœ এবং থাইল্যান্ডের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সংসাক থংস্রির।
বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে আঞ্চলিক সন্ত্রাসবাদ ও আন্তসীমান্ত অপরাধ দমনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মানব পাচার, মাদক ও রাসায়নিক পদার্থের অবৈধ বাণিজ্য প্রতিরোধ, অর্থ পাচার এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন বন্ধে সদস্যদেশগুলোর নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিমসটেকের সন্ত্রাসবাদ দমন ও আন্তর্জাতিক অপরাধবিষয়ক যৌথ কার্যকরী দলের একাদশ বৈঠকে গৃহীত সুপারিশগুলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালের ৬ জুন ব্যাংকক ঘোষণার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে বিমসটেক। এর সাত সদস্যদেশ হলো বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভুটান। সংস্থাটির সচিবালয় ঢাকায় অবস্থিত। ২০২৫ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশ বিমসটেকের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে।
এর আগে গত সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনেও অংশ নেননি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে তাঁকে ওই অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত। তবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, আমন্ত্রণটি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং বিমসটেকের সভাপতি হিসেবে পাঠানো হয়েছিল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের এ বৈঠকে বাংলাদেশের মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধি অনুপস্থিত থাকলেও জ্যেষ্ঠ সচিবের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।