
নিজস্ব প্রতিবেদন
পর্তুগাল জাতীয় দলের শিবির ঘিরে বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই ক্লাব ফুটবলে ফিরেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ফিরেই গোল করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন পর্তুগিজ এই মহাতারকা। তাঁর ৯৮০তম ক্যারিয়ার গোলের সুবাদে সৌদি প্রো লিগে দিরিয়াহর বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানের জয় পেয়েছে আল-নাসর।
ম্যাচের শুরু থেকেই রোনালদোকে ঘিরে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। তাঁকে সমর্থন জানিয়ে গ্যালারিতে বড় ব্যানার প্রদর্শন করেন আল-নাসর সমর্থকেরা। ব্যানারে লেখা ছিল—‘গ্রেটনেস অর্জন করতে হয়, সিআর৭—ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।’ মাঠের পারফরম্যান্সেও সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটান ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
ম্যাচের ২৩ মিনিটে কিংসলে কোমানের শট প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দিলে ফিরতি বল জালে পাঠান রোনালদো। এতে এগিয়ে যায় আল-নাসর। পর্তুগাল জাতীয় দল, স্পোর্টিং লিসবন, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ, জুভেন্টাস ও আল-নাসরের হয়ে অফিসিয়াল ম্যাচে এটি তাঁর ৯৮০তম গোল। ফুটবল ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে অফিসিয়াল ম্যাচে এক হাজার গোলের মাইলফলক স্পর্শ করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছেন তিনি।
পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়েও রোনালদোর অর্জন অনন্য। জাতীয় দলের জার্সিতে ২৩৪ ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা ১৪৬। পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে ম্যাচ খেলা ও গোল করার ক্ষেত্রে রেকর্ডের শীর্ষে রয়েছেন এই তারকা।
দিরিয়াহর বিপক্ষে ম্যাচে রোনালদোর গোলের পর আল-নাসরের হয়ে ব্যবধান বাড়ান সামু কোস্তা। জোয়াও ফেলিক্সের কর্নার থেকে হেডে বল জালে পাঠিয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। এরপর ৭৭ মিনিটে সাবেক বায়ার্ন মিউনিখ উইঙ্গার কোমান দুর্দান্ত দৌড়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে দলের তৃতীয় গোলটি করেন। শেষ পর্যন্ত ৩-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আল-নাসর।
তবে মাঠের বাইরের বিতর্কও রোনালদোকে ঘিরে আলোচনায় রয়েছে। পর্তুগালের হয়ে অবসর না নিলেও নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে বদলি হিসেবে দলে থেকেও মাঠে নামেননি তিনি। পরে চার ম্যাচের নেশনস লিগ বিরতির মাঝপথে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়েন এই তারকা। এরপর পর্তুগাল কোচ এবং সাবেক আল-নাসর কোচ হোর্হে জেসুসের বিরুদ্ধে ‘সম্পূর্ণ আস্থাভঙ্গের’ অভিযোগ তোলেন তিনি।
জাতীয় দল ঘিরে সেই বিতর্কের পর ক্লাব ফুটবলে রোনালদোর প্রত্যাবর্তন ছিল বাড়তি আলোচনার বিষয়। গোল করে দলকে জেতানোর মধ্য দিয়ে আপাতত মাঠের পারফরম্যান্সেই নিজের জবাব দিয়েছেন পর্তুগিজ এই কিংবদন্তি। তাঁর সামনে এখন নতুন মাইলফলক—ক্যারিয়ারের এক হাজার গোল।