
নিজস্ব প্রতিবেদন
সঞ্জু স্যামসন ও তিলক ভার্মার ব্যাটে ২৪৯ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়েও শেষ রক্ষা হলো না ভারতের। শাই হোপের অপরাজিত সেঞ্চুরি ও শেরফান রাদারফোর্ডের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ভারতকে ৬ উইকেটে হারিয়ে রেকর্ড গড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। রাঁচিতে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ২৫০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৪ উইকেট হারিয়ে ২৫২ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে ক্যারিবীয়রা। ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে এটিই তাদের সর্বোচ্চ সফল রান তাড়া।
ম্যাচে ভারতের হয়ে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন সঞ্জু স্যামসন। ৪১ বলে ৮২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। তিলক ভার্মাও শেষ দিকে ঝোড়ো ব্যাটিং করে ৪৪ রান করেন। ইনিংসের শেষ ওভারে টানা তিনটি ছক্কা হাঁকিয়ে ভারতের সংগ্রহকে নিয়ে যান ২৪৯ রানে। শ্রেয়াস আইয়ারের কার্যকর ব্যাটিংও বড় সংগ্রহ গড়তে ভূমিকা রাখে।
তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন রস্টন চেজ। ৪ ওভারে মাত্র ২৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে ভারতকে আরও বড় সংগ্রহ গড়া থেকে আটকে দেন তিনি। এরপরও ব্যাটারদের দাপটে লড়াইয়ের পুঁজি পায় ভারত। কিন্তু সেই পুঁজি আগলে রাখতে পারেনি বোলাররা। বিশেষ করে জাসপ্রিত বুমরাহর অনুপস্থিতিতে ভারতের বোলিং আক্রমণকে ভুগতে হয়েছে।
রান তাড়ায় শুরুটা অবশ্য ভালো ছিল না ওয়েস্ট ইন্ডিজের। মায়াঙ্ক যাদবের গতির সামনে প্রথম ওভারেই দুটি উইকেট হারায় দলটি। ষষ্ঠ ওভারের শুরুতে আরও একটি উইকেট তুলে নিয়ে ক্যারিবীয়দের চাপে ফেলেন তিনি। ৬ ওভার শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৭২ রান। মাত্র ৫৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে তখন বড় ধাক্কা সামলানোর চ্যালেঞ্জে ছিল দলটি।
সেখান থেকেই ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেন অধিনায়ক শাই হোপ ও শেরফান রাদারফোর্ড। চতুর্থ উইকেটে দুজনের ১২০ রানের জুটি ভারতের বোলারদের সব পরিকল্পনা ভেস্তে দেয়। রাদারফোর্ড মাত্র ৩৭ বলে ৮৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৭টি চার ও ৭টি ছক্কা। অন্য প্রান্তে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে আক্রমণ চালিয়ে যান হোপ।
মাত্র ৪৫ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন হোপ, যা টি-টোয়েন্টিতে তাঁর দ্বিতীয় শতক। শেষ পর্যন্ত ১০২ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক। ১৯তম ওভারে নিজের অষ্টম ও নবম ছক্কা হাঁকিয়ে জয়ের সমীকরণ সহজ করে দেন তিনি। রোমারিও শেফার্ডের ১৩ বলে ৩৪ রানের ঝোড়ো ইনিংসও জয়ের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
রাদারফোর্ডের ইনিংসে অবশ্য ভাগ্যের সহায়তাও ছিল। ৩৯ রানে থাকতে মায়াঙ্ক যাদবের বলে কুলদীপ যাদবের সহজ ক্যাচ ফসকে যায়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভারতীয় বোলারদের ওপর আরও চড়াও হন তিনি।
ম্যাচে বাউন্ডারি থেকেই ২০৪ রান সংগ্রহ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, যা দলটির টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে বাউন্ডারি থেকে সর্বোচ্চ রান। বিপরীতে ভারতের বাউন্ডারি থেকে আসে ১৪৮ রান। দুই দলের ব্যাটিংয়ের এই পার্থক্যই ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে ভারত সফরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান তাড়ার দাপট আরও স্পষ্ট হলো। সফরে পাঁচটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের পাঁচটিতেই সফলভাবে লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের নজির গড়েছে ক্যারিবীয়রা। অন্যদিকে বড় সংগ্রহ গড়েও বোলিং ব্যর্থতায় হার মানতে হয়েছে ভারতকে।