
নরসিংদী প্রতিনিধি
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কমিটির আমির মাওলানা মামুনুল হক অভিযোগ করেছেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর জনগণের সঙ্গে গাদ্দারি করেছে এবং তাদের অধিকার পদদলিত করছে। তাঁর দাবি, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় উপেক্ষা করে সরকার রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) নরসিংদীর পলাশ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের পলাশ উপজেলা শাখা আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মামুনুল হক বলেন, সরকার গঠনের পর বিরোধী দলের কর্মসূচি নিয়ে সরকারি দল ও তাদের সমর্থকেরা সমালোচনা করছেন। তাঁদের বক্তব্য, সরকারকে সময় দেওয়া প্রয়োজন এবং ছয়-সাত মাসের মধ্যেই বিরোধী দল কেন আন্দোলনে নেমেছে। কিন্তু বিরোধী দল হিসেবে তাঁরা ছয় মাস অপেক্ষা করেই রাজপথে নেমেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে মামুনুল হক বলেন, গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে পড়েছে বলে তাঁরা দাবি করছেন। অন্যদিকে, সংসদ নির্বাচনে প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট পেয়ে বিএনপির সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন। কিন্তু গণভোটের রায়ের আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে তাঁরা অসম্মতি জানিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “আমরা আন্দোলন করতে ছয় মাস বিলম্ব করেছি, কিন্তু জাতির সঙ্গে গাদ্দারি করতে আপনারা তো ছয় মিনিটও বিলম্ব করেননি।”
গণভোটের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সমালোচনা করে মামুনুল হক বলেন, একই নির্বাচন কমিশনের অধীনে, একই তফসিলে এবং একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সময়ে ভোট গ্রহণ ও ফল ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, সংসদ নির্বাচন বৈধ হলে গণভোট অবৈধ হওয়ার যুক্তি থাকতে পারে না। আর গণভোট অবৈধ হলে বিএনপি সরকারের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সমাবেশে গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদ জানানো হয়।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের পলাশ উপজেলা শাখার সভাপতি মুফতি ফারুক ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, নরসিংদী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইলিয়াছ শেরপুরী, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি মাওলানা জাহিদুজ্জামান এবং বাংলাদেশ খেলাফত শ্রমিক মজলিসের সভাপতি মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজীসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা।