নিউজ বাংলা ডেস্ক : ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ করা ডেনমার্কের কয়েকটি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাশিয়া নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইউক্রেনকে পশ্চিমা সামরিক সহায়তা দেওয়া বন্ধে রাশিয়ার আগের বড় পরিসরের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর মস্কো কৌশল পরিবর্তন করে সরাসরি অস্ত্র উৎপাদন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে বলে জানিয়েছেন ডেনমার্কের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা।
বুধবার কোপেনহেগেনে আয়োজিত একটি জাতীয় নিরাপত্তা সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় ডেনমার্কের জাতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার ওই কর্মকর্তা এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, রাশিয়ার এমন কর্মকাণ্ড দেশটির ছায়াযুদ্ধের পরিধি বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ‘বসন্তকালে আমরা অনেক পরিকল্পনা হতে দেখেছি। কিন্তু সেগুলোর খুব কমই বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। গ্রীষ্মের শুরুর দিকে আমরা দেখেছি, তারা অনেক বেশি তৎপরতা চালাতে শুরু করেছে।’
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়া থেকে ন্যাটোকে বিরত রাখতে রাশিয়ার আগের বিস্তৃত ও লক্ষ্যভিত্তিক কর্মকাণ্ড সফল হয়নি। তবে মস্কো এখনো এসব অভিযানের ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে এবং অভিযানের ক্ষেত্রে তাদের সাহসও বাড়ছে।
তিনি বলেন, রাশিয়া এখন ‘এমন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার চেষ্টা করছে, যার সরাসরি প্রভাব যুদ্ধের সম্মুখসারিতে পড়ে। এর অর্থ অস্ত্র উৎপাদন।’ তবে নাশকতা কিংবা ছায়াযুদ্ধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রাশিয়া বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।
বুধবার কোপেনহেগেনে রুশ দূতাবাসও ডেনমার্কের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, ডেনমার্কের কর্তৃপক্ষ রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছে।
ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি তালিকার কথাও উল্লেখ করেন। তালিকায় ইউরোপের বিভিন্ন ড্রোন ও ড্রোনের যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। এপ্রিলে রাশিয়া এসব প্রতিষ্ঠানকে সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করেছিল। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
ডেনমার্কের জাতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য রাশিয়া এখন ক্রমেই প্রশিক্ষণহীন ব্যক্তিদের নিয়োগ করছে। তাদের মধ্যে গৃহহীন ব্যক্তি ও মাদকাসক্তরাও রয়েছে। টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তাদের এসব কাজে যুক্ত করা হচ্ছে।
শুরুতে এসব ব্যক্তিকে তুলনামূলক সহজ কাজ দেওয়া হয়। কোনো নির্দিষ্ট স্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ কিংবা ছবি তোলার মতো কাজের মাধ্যমে তাদের ব্যবহার করা হয়। পরে ধাপে ধাপে তাদের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হয়।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এমন যে কেউ হতে পারে, যে দ্রুত কিছু টাকা আয় করতে চাইছে। প্রথম ব্যক্তি সফল না হলে, তারা আরেকজনকে কাজে লাগাবে। সফল না হওয়া পর্যন্ত তারা এভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাবে।’
এদিকে ডেনমার্কের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা গত মাসে সতর্ক করে জানিয়েছিল, আগামী কয়েক মাসে পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে রাশিয়ার ছায়াযুদ্ধ আরও তীব্র হতে পারে। এর আগে আগস্টে জার্মানি লেইপজিগ-হালে বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার চেষ্টার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেছিল।
এরও আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ডেনমার্কে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে দেশটির ছয়টি বিমানবন্দরে ড্রোনের কারণে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়। ওই বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে কোপেনহেগেন বিমানবন্দরও ছিল, যা নর্ডিক অঞ্চলের সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দর।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন ওই ঘটনাকে তার দেশের বিরুদ্ধে রাশিয়ার ছায়াযুদ্ধের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।