নিউজ বাংলা ডেস্ক : চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় টার্মিনাল নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এগিয়েছে। ১৫ বছরের জন্য টার্মিনালটি পরিচালনার লক্ষ্যে আজ বিকেলে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে কর্তৃপক্ষ কনসেশন বা রেয়াতি চুক্তি স্বাক্ষর করবে। ঢাকার ইনভেস্ট বাংলাদেশ অডিটরিয়ামে এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান। এর আগে গত ১ অক্টোবর বিদেশি অপারেটরের মাধ্যমে এনসিটি পরিচালনার চুক্তির খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম বন্দরের চারটি প্রধান টার্মিনালের মধ্যে আয়তন ও কার্যক্রমের দিক থেকে এনসিটি সবচেয়ে বড়। গত অর্থবছরে বন্দরের মোট কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৪৪ শতাংশ, অর্থাৎ ১৩ লাখ ৮৫ হাজার একক কনটেইনার এই টার্মিনাল দিয়ে ওঠানো-নামানো হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত চিটাগং ড্রাই ডক লিমিটেড টার্মিনালটি পরিচালনা করছে। ডিপি ওয়ার্ল্ড দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটিই এর ব্যবস্থাপনায় থাকবে।
তবে বিদেশি প্রতিষ্ঠানটির কাছে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে বন্দর রক্ষা কমিটি চট্টগ্রাম। সংগঠনের আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার ও সদস্যসচিব ফজলু কবির মিন্টু যৌথ বিবৃতিতে প্রস্তাবিত চুক্তিকে ‘কালো চুক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাদের অভিযোগ, জনগণের মতামত বিবেচনায় না নিয়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ নিয়ে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
চুক্তির শর্ত, পরিচালনার অধিকার, আর্থিক দায় এবং শ্রমিকদের অধিকার সম্পর্কে জনগণকে অবহিত না করে চুক্তি কার্যকর করা হলে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে কমিটি। এর আগে গত ৫ অক্টোবর চুক্তি বাতিলের দাবিতে বন্দর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচিও পালন করে সংগঠনটি।
এদিকে এনসিটি বিদেশি অপারেটরের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মরত প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন।
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সহসাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুত্ফর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরী এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই একক সিদ্ধান্তে এ ধরনের চুক্তি করা হলে তা শ্রম অসন্তোষের কারণ হতে পারে।