
নিজস্ব প্রতিবেদন
আন্তর্জাতিক ফুটবলে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর বিদায় যে বিতর্কের মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে, তা দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা স্ট্রাইকার গ্যারি লিনেকার। পর্তুগালের মহাতারকার বিদায়ও লিওনেল মেসির মতো আবেগঘন ও মর্যাদাপূর্ণ হওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি।
৪১ বছর বয়সী রোনালদো মঙ্গলবার দীর্ঘ এক বিবৃতিতে জাতীয় দল ছাড়ার পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করেন। সেখানে পর্তুগালের কোচ জর্জ জেসুসের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তোলেন তিনি। রোনালদোর এমন বক্তব্যের পর তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
অন্যদিকে ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনার জার্সিতে নিজের শেষ ম্যাচ খেলেছেন বেনিনের বিপক্ষে। ৩-০ গোলের সেই জয়ে একটি গোল করার পাশাপাশি দুটি গোলে সহায়তা করেন তিনি। বুয়েনস আয়ার্সে মেসিকে দেওয়া আবেগঘন বিদায়ী সংবর্ধনাও ফুটবলবিশ্বে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
রোনালদোর বিদায়কে মেসির সঙ্গে তুলনা করে লিনেকার বলেন, পর্তুগিজ তারকাও একই ধরনের সম্মান ও আবেগঘন বিদায় পাওয়ার যোগ্য ছিলেন।
লিনেকারের ভাষায়, “এটা একটু দুঃখজনক, কারণ তিনিও একজন গ্রেট ফুটবলার। পাঁচ বা দশ বছর পর কেউ এই বিতর্ক মনে রাখবে না, সবাই তার মহত্ত্বই মনে রাখবে। মেসির বিদায় ছিল অসাধারণ, রোনালদোরও একই রকম প্রাপ্য ছিল।”
প্রায় দুই দশক ধরে বিশ্ব ফুটবলে সেরা খেলোয়াড়ের মর্যাদা নিয়ে মেসি ও রোনালদোর দ্বৈরথ ছিল অন্যতম আলোচিত বিষয়। ব্যক্তিগত অর্জনেও দুজনের অবস্থান ফুটবল ইতিহাসের শীর্ষ সারিতে। মেসি রেকর্ড আটবার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন, আর রোনালদোর দখলে রয়েছে পাঁচটি।
তবে ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে দুজনের অবস্থায় দেখা দিয়েছে বড় পার্থক্য। মেসি বিশ্বকাপসহ জাতীয় দলের হয়ে একের পর এক সাফল্য ও স্মরণীয় পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়ে বিদায়ের মঞ্চে উঠেছেন। অন্যদিকে রোনালদোর শেষ অধ্যায়টি জাতীয় দলের ভেতরের বিষয় ও কোচের সঙ্গে মতবিরোধের বিতর্কে কিছুটা ম্লান হয়ে পড়েছে।
এদিকে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইনকেও দেশের ফুটবলের সর্বকালের সেরাদের তালিকায় রাখার পক্ষে জোরালো মত দিয়েছেন লিনেকার। মঙ্গলবার চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ম্যাচে ইংল্যান্ডের হয়ে ১২৫তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে পিটার শিলটনের রেকর্ড স্পর্শ করেন কেইন। একই ম্যাচে নিজের আন্তর্জাতিক গোলসংখ্যা বাড়িয়ে নেন ৯১-এ।
ইংল্যান্ডের হয়ে ৪৮ গোল করা লিনেকার বলেন, কেইনকে অবশ্যই দেশের সর্বকালের সেরাদের আলোচনায় রাখতে হবে। তার মতে, ববি চার্লটন ও ববি মুরের মতো কিংবদন্তিদের সঙ্গে একই আলোচনায় থাকার যোগ্যতা ইতোমধ্যে অর্জন করেছেন কেইন।
লিনেকার বলেন, “কেইনকে অবশ্যই দেশের সর্বকালের সেরাদের আলোচনায় রাখতে হবে। সম্ভবত ববি চার্লটন বা ববি মুরের সঙ্গে। তার রেকর্ড অবিশ্বাস্য। তিনি শুধু গোলদাতা নন, মাঠে সর্বত্র খেলতে পারেন। দুই পা ও মাথা দিয়ে নানা ধরনের গোল করেন। তিনি সবকিছুই পারেন।”
ফুটবল ইতিহাসে মেসি-রোনালদো অধ্যায় হয়তো শেষের পথে। কিন্তু দুজনের দীর্ঘ প্রতিদ্বন্দ্বিতা, অসংখ্য রেকর্ড ও ফুটবলে রেখে যাওয়া প্রভাব তাদের নামকে আরও বহু বছর আলোচনায় রাখবে—এমনটাই মনে করেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।