
নিজস্ব প্রতিবেদন
মধ্যপ্রাচ্যে তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বেড়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। উপসাগরীয় অঞ্চল ও হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজে একের পর এক হামলার ঘটনায় সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০১ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) গ্রিনিচ মান সময় রাত ১টা ১৬ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৩৩ ডলার বা ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৫৩ ডলারে ওঠে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ব্যবহৃত ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ১১ ডলার বা ১ দশমিক ২৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৯ দশমিক ৩৯ ডলারে দাঁড়ায়।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পণ্য এই জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়। ফলে এ অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বা জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়। সাম্প্রতিক সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চল ও হরমুজ প্রণালির আশপাশে তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা বাড়ায় সেই উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে।
গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি ঘিরে অপরিশোধিত তেল পরিবহন কিছুটা স্বাভাবিক হলেও পরিশোধিত জ্বালানি সরবরাহ এখনও চাপে রয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, হামলা ও নিরাপত্তাঝুঁকি দীর্ঘায়িত হলে জাহাজ চলাচলের ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি তেল পরিবহনেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত কমে যাওয়ার তথ্য। মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) তথ্য অনুযায়ী, ২ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির বাণিজ্যিক অপরিশোধিত তেলের মজুত ৩২ লাখ ব্যারেল কমে ৪২ কোটি ৪১ লাখ ব্যারেলে নেমেছে। বাজার বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের বিপরীতে মজুত কমে যাওয়ায় সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে তেলের দামে।
এর আগে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমেছিল। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়ার কার্যক্রম দ্রুততর করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সরবরাহ ঘাটতি নিয়ে বাজারে সাময়িক স্বস্তি ফিরেছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যে হামলা, জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথে নিরাপত্তা সংকট সেই স্বস্তি বেশি দিন স্থায়ী হতে দেয়নি।
এদিকে সৌদি আরবের বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে হুথিদের হামলার ঘটনাও মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর স্থাপনা ও পরিবহনপথে হামলা অব্যাহত থাকলে সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি এখন তেলের বাজারের জন্য সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তাগুলোর একটি। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হলে শুধু অপরিশোধিত তেলের দাম নয়, বিশ্বব্যাপী ডিজেল, জেট ফুয়েল ও অন্যান্য পরিশোধিত জ্বালানির বাজারেও নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।