নিউজ বাংলা ডেস্ক : কক্সবাজারের চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতা ইশফাতুল ইসলাম জিসান (২৭) হত্যার ঘটনায় রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, রেজিয়া সুলতানা নামে এক নারীর সঙ্গে জিসানের প্রেমের সম্পর্ক এবং অর্থ লেনদেনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ভাড়াটে লোক দিয়ে তাকে অপহরণের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে চকরিয়া থানায় সাংবাদিকদের সামনে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আবদুল আজিজ। তিনি জানান, হত্যার পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও সহযোগীদের শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
মো. আবদুল আজিজ বলেন, হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া দুই চালক তাদের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তারা হত্যার রহস্যও আদালতকে জানিয়েছেন।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন চকরিয়ার কাকারা ইউনিয়নের দক্ষিণ লোটনী গ্রামের আবু বক্কর ছিদ্দিকের ছেলে আনোয়ার হোসেন ওরফে কাল্লু ড্রাইভার এবং ডুলাহাজারা ইউনিয়নের রিংভং এলাকার বাহাদুর আলমের ছেলে জিসাত মিয়া ওরফে শওকত ড্রাইভার। তাদের মধ্যে জিসাত মিয়া অপহরণে ব্যবহৃত নোয়া গাড়িটির চালক ছিলেন।
ব্রিফিংয়ে চকরিয়া থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নূর আলম মাসুম সিদ্দিকীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে কাকারার মাইজ কাকারা এলাকা থেকে একটি সাদা রঙের নোয়া গাড়িতে করে জিসানকে তুলে নেওয়া হয়। তিনি কাকারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।
অপহরণের কয়েক ঘণ্টা পর ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে চকরিয়ার খুটাখালীর মেদাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যানের পাহাড়ি জঙ্গলের ভেতর থেকে জিসানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় জিসানের বড় ভাই কাইচার হামিদ বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় রেজিয়া সুলতানাসহ তার চার প্রবাসী ভাই বিএনপি নেতা জকরিয়া, নাজিম উদ্দিন, মিজানুর রহমান ও মিনহাজ উদ্দিন, বেগম নাজিম এবং একে তারেকসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ৫-৬ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।