
নিউজ বাংলা ডেস্ক: শুক্রবার (২ অক্টোবর) মালয়েশিয়ায় নিখোঁজ নাগরিকদের পরিবারের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ‘মালয়েশিয়া সলিডারিটি: ফ্যামিলিজ ইন হোপ’-এর মুখপাত্র মনিভান্নান রেথিনাম এ তথ্য জানান। মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, ওই নাগরিক ১ অক্টোবর কাঠমান্ডুতে দেশটির দূতাবাসে উপস্থিত হয়ে নিজের পরিচয় নিশ্চিত করেন। পরদিন ২ অক্টোবর তিনি মালয়েশিয়ায় ফিরে যান।
ফিরে আসা ওই ব্যক্তি চীনা বংশোদ্ভূত মালয়েশীয় নাগরিক। গত ২৫ আগস্ট একা নেপাল ভ্রমণের সময় স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ২৬ মিনিটে তিনি নাগথালি ভিউপয়েন্টে অবস্থান করছিলেন। পরদিন ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী পার্বত্য অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটলে সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তিনি সেখানে আটকা পড়েন।
দুর্যোগের কারণে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ, খাবার পানি ও যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে দীর্ঘ ৩৭ দিন পরিবারের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করতে পারেননি তিনি। একপর্যায়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নিজ উদ্যোগে কাঠমান্ডুতে মালয়েশিয়ার দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেখান থেকেই তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়।
দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকার পর ওই নাগরিকের জীবিত ফিরে আসার খবরে স্বস্তি ফিরেছে তাঁর পরিবারের পাশাপাশি অন্য নিখোঁজ মালয়েশীয়দের স্বজনদের মধ্যেও। পরিবারের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনটির মুখপাত্র মনিভান্নান রেথিনাম বলেন, দীর্ঘদিন যোগাযোগের বাইরে থেকেও একজনের নিরাপদে ফিরে আসার ঘটনা বাকি নিখোঁজদের পরিবারকে নতুন করে আশাবাদী করে তুলেছে। এখনো নিখোঁজ থাকা অন্য ৫৪ জনের সন্ধান পাওয়ার ব্যাপারেও তাঁরা আশাবাদ ধরে রাখতে চান।
গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী পার্বত্য এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস আঘাত হানে। হিমবাহ ও বরফ ধসের পর সৃষ্ট প্রবল জলস্রোত বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এতে সড়ক, সেতু ও যোগাযোগ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট শক্তি ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমতুল্য ছিল।
এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে নেপালে এক হাজার ৪৫০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি হাজার হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্যোগের পর দুর্গম পার্বত্য এলাকায় যোগাযোগ ও পরিবহনব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় উদ্ধার অভিযান, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং মরদেহের পরিচয় শনাক্তকরণে নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে।
মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ৩৭ দিন পর ওই নাগরিককে জীবিত উদ্ধারের পর নেপালে নিখোঁজ ও যোগাযোগবিচ্ছিন্ন মালয়েশীয় নাগরিকের সংখ্যা ৫৫ থেকে কমে ৫৪ জনে দাঁড়িয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিখোঁজ প্রত্যেক নাগরিকের অবস্থান শনাক্ত ও তথ্য যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে।
দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর একজনের জীবিত ফিরে আসার ঘটনা নেপালের ভয়াবহ দুর্যোগে স্বজনদের অপেক্ষার মধ্যে নতুন আশার আলো দেখিয়েছে। তবে বাকি ৫৪ জনের অবস্থান নিশ্চিত না হওয়ায় তাঁদের পরিবারের উদ্বেগ এখনো কাটেনি।