
নিজস্ব প্রতিবেদক
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের পরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা সম্ভব হয়নি ক্রিস্টা পাইকের। বর্তমানে তিনি সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার পর অঙ্গরাজ্যটিতে ২০২৬ সালের বাকি সময়ের জন্য সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন গভর্নর।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পাইকের আইনজীবী র্যান্ডি স্পাইভি সাংবাদিকদের জানান, তাঁর শারীরিক অবস্থা এবং সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তিনি জীবিত রয়েছেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বলে নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী।
৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইক ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে ১৯৯৫ সালে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন। গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) টেনেসির রিভারবেন্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশনে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হয়। সফল হলে তিনি টেনেসি অঙ্গরাজ্যে দুই শতাধিক বছরের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া প্রথম নারী হতেন।
পাইকের আইনজীবীদের দাবি, তাঁকে প্রাণঘাতী ওষুধ পেন্টোবারবিটালের দুটি ডোজ প্রয়োগ করা হলেও তাঁর মৃত্যু হয়নি। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে শিরায় ওষুধ প্রয়োগের ব্যবস্থা করার চেষ্টা শেষে দুই দফায় তাঁকে প্রাণঘাতী ওষুধ দেওয়া হয়। এরপরও তিনি জীবিত থাকায় শেষ পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া বন্ধ করে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আইনজীবী র্যান্ডি স্পাইভি জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে পাইকের শরীরে শিরাপথ স্থাপনের সময় একাধিকবার সূঁচ প্রবেশ করাতে হয়েছে। তাঁর বাম হাতে কয়েকবার চেষ্টা করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি। দুই দফা প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগের পরও পাইক শ্বাস নিচ্ছিলেন বলে জানান স্পাইভি। তবে এসব তথ্য পাইকের আইনজীবীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে জানা গেছে।
এ ঘটনার পর পাইকের আইনজীবীরা তাঁর মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরের আবেদন করেছেন। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে আরও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা।
এদিকে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন টেনেসির গভর্নর বিল লি। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের বাকি সময়ের জন্য অঙ্গরাজ্যে সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন তিনি। এর ফলে আগামী ৩ ডিসেম্বর গ্যারি সাটনের নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়াও স্থগিত করা হয়েছে।
তবে টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন জানিয়েছে, ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় রাজ্যের অনুমোদিত ও আইনসম্মত প্রোটোকলের প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করা হয়েছে। দুই দফায় প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগও ওই প্রোটোকলের অংশ বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, চলতি বছর টেনেসি অঙ্গরাজ্যে এটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দ্বিতীয় ব্যর্থ চেষ্টা। এর আগে গত মে মাসে টনি ক্যারুথার্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। তাঁর শরীরে প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় শিরাপথ স্থাপন করতে ব্যর্থ হন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়।