নিউজ বাংলা ডেস্ক : দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) পাটকলগুলো বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ধাপে ধাপে চালুর উদ্যোগ এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, এই কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিজেএমসির ২৫টি পাটকলের মধ্যে ২০টি বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি মিলের লিজ প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ৯টি মিলে উৎপাদন শুরু হওয়ায় প্রায় সাড়ে ৯ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রামের এমএম জুট মিল, রাঙ্গুনিয়ার কেএফডি লিমিটেড এবং নরসিংদীর কো-অপারেটিভ জুট মিল—এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের লিজ প্রক্রিয়া এখনো চলমান।
সম্প্রতি আরও তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের ইজারা চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস ও খুলনার স্টার জুট মিলস পেয়েছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। আর খুলনার প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলসের ইজারা পেয়েছে হ্যামকো গ্রুপ।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হিসাবে, এসব তিনটি মিল উৎপাদনে ফিরলে অন্তত ১১ হাজার ৬২৯ জনের কর্মসংস্থান হতে পারে। পাশাপাশি প্রায় ৬১৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং বছরে প্রায় ১ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা মোট আয়ের সম্ভাবনাও রয়েছে।
বিজেএমসির মুখ্য পরিচালন কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশিদ জানান, ধারাবাহিক লোকসান এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পারার কারণে মিলগুলো বন্ধ করে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, অবশিষ্ট পাঁচটি মিলের মধ্যে ডেমরার করিম জুট মিলস ও লতিফ বাওয়ানী জুট মিলস বেজার কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এসব স্থানে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া বিডিসিএফ বাগদাদ-ঢাকা কার্পেট ফ্যাক্টরি ও আলিম জুট মিলস নিয়ে মামলা চলমান। সীতাকুণ্ডের আমিন জুট মিলস আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে উৎপাদনে যেতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, কর্মসংস্থান তৈরি, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং অব্যবহৃত সম্পদকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যেই বন্ধ পাটকলগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্বচ্ছ দরপত্রের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে মিলগুলো লিজ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পাট ও পাটজাত পণ্যে বিনিয়োগ বাড়াতে ঋণ-সুবিধাসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।
ধারাবাহিক লোকসানের কারণে ২০২০ সালের ১ জুলাই বিজেএমসির অধীন ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে এসব মিল দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।