নিউজ বাংলা ডেস্ক : উন্নত ২৪০ মিমি ‘গাইডেড মাল্টিপল রকেট লঞ্চার সিস্টেম’-এর পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেছে উত্তর কোরিয়া। মঙ্গলবার এই পরীক্ষা চালানো হয় বলে বৃহস্পতিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে।
কেসিএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরীক্ষায় নতুন রকেটগুলোর নির্ভুলতা ও কার্যকারিতা যাচাই করা হয়েছে। এসব রকেটে স্বয়ংক্রিয় নির্ভুল নির্দেশনা ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার দাবি, নতুন এই অস্ত্র দক্ষিণ সীমান্তে তাদের সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
কেসিএনএ আরও জানিয়েছে, নতুন ধরনের রকেটের উন্নয়নের ফলে দক্ষিণ সীমান্তে উত্তর কোরিয়ার সামরিক প্রস্তুতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। এখানে দক্ষিণ সীমান্ত বলতে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে দেশটির সীমান্তকে বোঝানো হয়েছে।
পরীক্ষাটি তদারকি করেন উত্তর কোরিয়ার কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের ভাইস-চেয়ারম্যান পাক জং-চন। তিনি দক্ষিণ সীমান্তে সবচেয়ে শক্তিশালী ও ধ্বংসাত্মক আক্রমণাত্মক সামরিক শক্তি মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ঘটনার বিষয়ে জানতে রয়টার্স ইমেইলের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরে তাদের কৌশলগত ও প্রচলিত অস্ত্রভাণ্ডার আধুনিকায়ন এবং শক্তিশালী করার কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এসব অস্ত্র দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় মোতায়েনের পরিকল্পনাও দেশটির রয়েছে।
সিউলের কিউংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর ফার ইস্টার্ন স্টাডিজের অধ্যাপক লিম উল-চুল বলেন, ‘নতুন রকেটে নির্ভুল নির্দেশনা ব্যবস্থা ব্যবহারের অর্থ হলো, উত্তর কোরিয়া সিউল মহানগর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে মাত্র কয়েক মিটারের ব্যবধানে হামলা চালাতে সক্ষম হতে পারে।’
লিমের ভাষ্য অনুযায়ী, এর ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী অঞ্চল সম্ভাব্য হুমকির মধ্যে পড়তে পারে। তাঁর মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার জনগণের মধ্যে ভয় সৃষ্টিও এর একটি উদ্দেশ্য হতে পারে।
এর আগে জুন মাসে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দেশটির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করেন। সেসবের মধ্যে উন্নত রকেট লঞ্চার ও কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রও ছিল। তখন উত্তর কোরিয়া জানিয়েছিল, এসব অস্ত্র দক্ষিণ সীমান্তের প্রতিরক্ষায় ব্যবহারের জন্য।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চোয়ে সন-হুই বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে উত্তর কোরিয়ার মর্যাদা আর পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান উত্তর কোরিয়ার সম্পূর্ণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করার পর পিয়ংইয়ং তার অবস্থানে আরও দৃঢ় হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।