
নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মঞ্চে জিয়া পরিবারের চার দশকেরও বেশি সময়ের অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতায় এবার যুক্ত হতে যাচ্ছে নতুন অধ্যায়। আগামী বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণের মধ্য দিয়ে এই ধারাবাহিকতায় নতুন পর্বের সূচনা হবে।
১৯৮০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। জাতিসংঘের সরকারি নথি অনুযায়ী, ২৬ আগস্ট ১৯৮০-তে দেওয়া ওই ভাষণে তিনি নতুন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা, উন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বের বৈষম্য এবং দারিদ্র্য ও ক্ষুধার মতো বৈশ্বিক সংকট তুলে ধরেন। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
এর ১৩ বছর পর ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। জাতিসংঘের সরকারি কার্যবিবরণীতে তাঁর ওই ভাষণের তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে।
পরবর্তী সময়েও জাতিসংঘের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন খালেদা জিয়া। ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিশেষ স্মারক অধিবেশনে তিনি বক্তব্য দেন। ২০০২ সালে শিশুদের নিয়ে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ২৭তম বিশেষ অধিবেশনেও তিনি বক্তব্য রাখেন। ওই অধিবেশনের সরকারি নথিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর বক্তব্য রয়েছে।
২০০৫ সালে সাধারণ পরিষদের ৬০তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্ক ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমেও বক্তব্য দেন খালেদা জিয়া। জাতিসংঘের নথিতে ওই অধিবেশনে তাঁর বক্তব্যের উল্লেখ রয়েছে।
এবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এবারের অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য—‘Restoring Trust, Managing Transformation: A United Nations That Delivers for All’ বা ‘আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ’।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণে বাংলাদেশের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার তুলে ধরা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন, জলবায়ু অর্থায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, বৈশ্বিক শান্তি এবং আন্তর্জাতিক সংকটের টেকসই সমাধানের মতো বিষয় ভাষণে গুরুত্ব পেতে পারে।
পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটও এবারের সফরে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উঠে আসতে পারে। জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তাও বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরার প্রস্তুতি রয়েছে।
এবার বাংলাদেশের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ২ জুন ২০২৬ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন।
ফলে ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমানের ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘে জিয়া পরিবারের যে অংশগ্রহণের অধ্যায় শুরু হয়েছিল, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণে যে ধারাবাহিকতা বজায় ছিল, ২০২৬ সালে তারেক রহমানের প্রথম ভাষণের মধ্য দিয়ে সেই ধারাবাহিকতায় যুক্ত হতে যাচ্ছে নতুন একটি অধ্যায়।