
নিজস্ব প্রতিবেদক
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, জ্বালানি ও সার সংকট নিরসনসহ আট দফা দাবিতে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে রংপুরের উদ্দেশে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ শুরু হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার পর উদ্বোধনী সমাবেশ শেষে লংমার্চের গাড়িবহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে।
এর আগে সকাল ৭টা থেকে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ শুরু হয়। এতে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। সমাবেশে নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। পরে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান লংমার্চের আনুষ্ঠানিক যাত্রা ঘোষণা করেন।
সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আট দফা দাবিতে আমাদের লংমার্চ। সরকার যদি দাবি পূরণ করতে না পারে, তাহলে সেটি নয় দফা, ১০ দফা, আবার এক দফাতেও রূপান্তরিত হতে পারে। পরিস্থিতি তখন ভয়াবহ হবে।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বিএনপি মানবাধিকার ও গণতন্ত্র ধ্বংস করছে। অতীতে একই কাজ করে আওয়ামী লীগ পালাতে বাধ্য হয়েছে। এখন তারেক রহমানকে যাওয়ার রাস্তা ঠিক করতে হবে—হেলিকপ্টারে যাবেন, নাকি সম্মানজনক পদত্যাগ করবেন।’
বিভিন্ন স্থানে ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘তাতে লাভ হবে না। আমাদের দাবি এক দফায় ঠেকবে।’
এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, ‘বিএনপির ঘরে ঘরে এখন কান্নার রোল পড়ে গেছে।’
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেন, ‘বিরোধী দল দায়িত্বশীল আচরণ করছে। আমরা হরতাল না করে লংমার্চ করছি। দেশের রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে ১১ দল।’
সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম সঞ্চালনা করেন। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, সাবেক এমপি ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানী, আমার বাংলাদেশ পার্টির সভাপতি মুজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম এবং জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপিসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।
লংমার্চের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ঢাকা থেকে রংপুরের পথে গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধায় পথসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে।
১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন।