
নিজস্ব প্রতিবেদন
মক্কা ও মদিনা শরিফ অঞ্চলের পবিত্র স্থাপনা এবং বেসামরিক মানুষের ওপর হাউছি গোষ্ঠীর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)। সংস্থাটি বলেছে, এ ধরনের হামলার মাধ্যমে বেসামরিক জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি, পবিত্র স্থান ও মসজিদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন এবং বিশ্বের মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ওআইসির মহাসচিবের কার্যালয় এক বিবৃতিতে হাউছিদের চালানো হামলাকে ‘জঘন্য হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করে। বিবৃতিতে বলা হয়, মক্কার পবিত্র নগরী ও মদিনা অঞ্চলে হামলার ঘটনা বেসামরিক মানুষকে আতঙ্কিত করা, পবিত্র স্থান ও মসজিদের মর্যাদা লঙ্ঘন এবং বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের অনুভূতিতে উসকানি দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছে বলে মনে করে সংস্থাটি।
ওআইসি বলেছে, পবিত্র স্থান, মসজিদ ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলা সন্ত্রাসবাদ এবং তা ইসলামি মূল্যবোধ, আন্তর্জাতিক রীতি ও আইনের পরিপন্থী। পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদা লঙ্ঘনকে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য বা সহনীয় নয় বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের প্রতিহত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ওআইসি। একই সঙ্গে সৌদি আরবের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে সংস্থাটি বলেছে, পবিত্র স্থান ও বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সৌদি সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, সেগুলোর প্রতি ওআইসির সমর্থন রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় হাউছি হামলার অভিযোগ উঠেছে। এর আগে জাজান অঞ্চলে একটি মসজিদসহ কয়েকটি স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি ও দুইজন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল সৌদি সিভিল ডিফেন্স। হাউছিরা অবশ্য ওই হামলায় সৌদি সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করার দাবি করেছে।
ওআইসির সর্বশেষ বিবৃতিটি এমন এক সময়ে এলো, যখন ইয়েমেনের হাউছি গোষ্ঠী ও সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর মধ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়েছে এবং সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় হাউছি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অভিযোগ সামনে এসেছে।