
নিজস্ব প্রতিবেদক
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই দেশে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে শক্তিশালী ধারা অব্যাহত রয়েছে। অর্থবছরের প্রথম ৭৫ দিনে অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে এসেছে ৭২৫ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স। আগের অর্থবছরের একই সময়ে ৬২০ কোটি ৬০ লাখ ডলার এসেছিল। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৩ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১৪২ কোটি ৭০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১৩০ কোটি ৬০ লাখ ডলার। ফলে এ সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ১৩ সেপ্টেম্বর এক দিনেই প্রবাসী বাংলাদেশিরা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে পাঠিয়েছেন ১৯ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। অর্থবছরের শুরু থেকেই ধারাবাহিকভাবে উচ্চ রেমিট্যান্স আসায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রবাসী আয়ের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে বহিঃখাতের ভারসাম্য ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশেষ করে বৈধ পথে প্রবাসী আয় পাঠাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর সুবিধা বৃদ্ধি এবং প্রবাসীদের উৎসাহিত করার বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্সের এই ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে হলে বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত করার পাশাপাশি প্রবাসীদের জন্য ব্যাংকিং সেবার সুযোগ বাড়াতে হবে। এতে একদিকে যেমন দেশে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়বে, অন্যদিকে অর্থনীতির বহিঃখাত আরও শক্তিশালী হবে।