
নিজস্ব প্রতিবেদক
আধুনিক প্রযুক্তির বৃহৎ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হিসেবে নির্মাণ করা হয়েছিল বাগেরহাটের রামপাল মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রকল্প। কিন্তু বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর কয়েক বছরের মধ্যেই কেন্দ্রটির নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কোনো না কোনো ইউনিট ৩০ বার বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ বারই যান্ত্রিক বা কারিগরি ত্রুটি এবং তিনবার কয়লা সংকটকে কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বারবার টারবাইন, বয়লার, টিউব, ফিডিং সিস্টেমসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতিতে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় কেন্দ্রটির পরিচালন সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অন্যদিকে কেন্দ্রটি উৎপাদনে না থাকলেও চুক্তি অনুযায়ী সক্ষমতা-প্রাপ্যতার বিপরীতে ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধের দায় রয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—বারবার বন্ধ থাকা একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য জনগণের অর্থে কতটা ব্যয় হচ্ছে এবং সেই ব্যয়ের বিপরীতে বাংলাদেশ কতটা বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে?
পিডিবি ও ভারতের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার করপোরেশন—এনটিপিসির ৫০:৫০ মালিকানায় গঠিত বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল) রামপাল কেন্দ্রটি পরিচালনা করছে। দুই ইউনিটে কেন্দ্রটির অনুমোদিত উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিট ২০২২ সালের ডিসেম্বরে এবং দ্বিতীয় ইউনিট ২০২৪ সালের মার্চে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যায়।
রামপাল কেন্দ্রের বারবার বন্ধ হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পরপরই এমন একাধিক ঘটনা ঘটে। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর মাত্র সাত মাসের মধ্যে কেন্দ্রটি ছয়বার বন্ধ হয়েছিল।
ওই বছরের ১৬ জুলাই টারবাইনের ত্রুটির কারণে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। চার দিন পর সেটি পুনরায় চালু করা হয়। ৩০ জুলাই কয়লা সংকটে আবার উৎপাদন বন্ধ হয়। তখন কেন্দ্রটির কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, কয়লা সরবরাহ নিশ্চিত হলে ৮ আগস্টের দিকে উৎপাদন শুরু হতে পারে।
এরপর নভেম্বরে যান্ত্রিক ত্রুটিতে কেন্দ্র বন্ধ হয়। ডিসেম্বরে ইমপালস টিউব লিকেজের কারণে আবার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ১১ ডিসেম্বরের ওই ঘটনায় বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর অষ্টমবারের মতো কেন্দ্রটি বন্ধ হওয়ার তথ্য সামনে আসে।
শুধু উৎপাদন বন্ধের ঘটনাই নয়, বিআইএফপিসিএলের নিজস্ব নথিতেও গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রতিস্থাপনের প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত রয়েছে। ২০২৪ সালে ২×৬৬০ মেগাওয়াট রামপাল প্রকল্পের বয়লার টিউবের জন্য প্রটেকশন শিল্ড ও বয়লার টিউব সংগ্রহে দরপত্র আহ্বান করা হয়।
এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—মাত্র কয়েক বছর বয়সী একটি আধুনিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ এত ঘন ঘন বিকল হওয়ার কারণ কী? নকশা, নির্মাণ, কমিশনিং, যন্ত্রাংশের মান, পরিচালন পদ্ধতি নাকি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাপনায় কোথাও কি কাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে?
রামপালকে পুরনো বিদ্যুৎকেন্দ্র হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট নিয়ে নির্মিত কেন্দ্রটিতে আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। বিআইএফপিসিএলও এটিকে আধুনিক প্রযুক্তির প্রকল্প হিসেবে বর্ণনা করে।
ফলে বাণিজ্যিক উৎপাদনের কয়েক বছরের মধ্যেই টারবাইন, বয়লার ও সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশে বারবার ত্রুটি দেখা দিলে বিষয়টি শুধু বয়সজনিত ক্ষয় দিয়ে ব্যাখ্যা করা কঠিন। বরং কেন্দ্রটির নকশা থেকে শুরু করে নির্মাণ, কমিশনিং, যন্ত্রাংশের গুণগত মান, অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ—প্রতিটি ধাপ স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রটির প্রকৃত নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করতে প্রতিটি ইউনিটের অনির্ধারিত ও পরিকল্পিত বিভ্রাট, ট্রিপের ইতিহাস, বয়লার টিউব ও টারবাইন বিকল হওয়ার ঘটনা, মেরামত ব্যয় এবং মোট ডাউনটাইম প্রকাশ করা জরুরি।
রামপাল কেন্দ্র নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি অর্থনৈতিক। বিআইএফপিসিএলের আর্থিক প্রতিবেদনভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে কেন্দ্রটি প্রায় ১.৩৩ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। ওই বছর এনার্জি চার্জ বাবদ আয় ছিল প্রায় ১ হাজার ৫ কোটি টাকা। বিপরীতে ক্যাপাসিটি চার্জ ছিল প্রায় ১ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা।
পরের অর্থবছর ২০২৩-২৪ সালে কেন্দ্রটির উৎপাদন বেড়ে প্রায় ৩.৪৫ বিলিয়ন ইউনিটে দাঁড়ায়। ওই বছর এনার্জি চার্জ ছিল প্রায় ২ হাজার ১৪২ কোটি টাকা এবং ক্যাপাসিটি চার্জ প্রায় ৩ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট আয়ের প্রায় ৬৪ শতাংশই আসে ক্যাপাসিটি চার্জ থেকে।
দুই অর্থবছর মিলিয়ে রামপাল কেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ দাঁড়ায় প্রায় ৪ হাজার ৬৩৬ কোটি টাকা। ৫০:৫০ মালিকানার হিসাবে এর প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ প্রায় ২ হাজার ৩১৮ কোটি টাকা ভারতীয় অংশীদার এনটিপিসির মালিকানাধীন অংশের সঙ্গে সম্পর্কিত।
তবে ক্যাপাসিটি চার্জকে সরাসরি ‘বিদ্যুৎ না দিয়েই আয়’ হিসেবে অভিহিত করা সঠিক নয়। চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সক্ষমতায় বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রস্তুত ও প্রাপ্য রাখার বিপরীতে এ অর্থ দেওয়া হয়। কিন্তু কোনো কেন্দ্র কতটা বাস্তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে এবং সেই উৎপাদনের তুলনায় কত ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করা হচ্ছে—অর্থনৈতিক মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে রামপালের মোট প্রাপ্তি ছিল প্রায় ৫ হাজার ১৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ক্যাপাসিটি চার্জই ছিল ৩ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা। উৎপাদিত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের বিপরীতে মোট অর্থপ্রাপ্তি দাঁড়ায় প্রায় ১৪ টাকা ৮৯ পয়সা। এর মধ্যে ক্যাপাসিটি চার্জের অংশই প্রায় ৯ টাকা ৪৯ পয়সা।
রামপাল কেন্দ্রের ব্যয় শুধু ক্যাপাসিটি চার্জেই সীমাবদ্ধ নয়। পিডিবির একটি আর্থিক পর্যালোচনায় কেন্দ্রটিতে কর্মরত ভারতীয় নাগরিকদের বেতন-ভাতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
২০২৪ সালের অক্টোবরের হিসাব অনুযায়ী, রামপালে কর্মরত ৫১ জন ভারতীয় নাগরিককে মোট প্রায় ১৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা দেওয়া হয়। অর্থাৎ গড়ে প্রত্যেকের মাসিক প্রাপ্তি প্রায় ২৬ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে একজন ভারতীয় কর্মকর্তার সর্বোচ্চ মাসিক প্রাপ্তি ছিল প্রায় ৪৭ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।
বেতন-ভাতার পাশাপাশি কর্মদক্ষতা বোনাস, ছুটি নগদায়ন ও বিদেশি ভাতাও ছিল এই ব্যয়ের মধ্যে। শুধু ওই মাসেই কর্মদক্ষতা ভাতা হিসেবে প্রায় ৫ কোটি টাকা এবং বিদেশি ভাতা হিসেবে প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা দেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।
কেন্দ্রটি প্রত্যাশিত মাত্রার তুলনায় কম সক্ষমতায় চলা এবং একই সময়ে আর্থিক চাপের মধ্যে থাকা অবস্থায় এত বড় অঙ্কের কর্মদক্ষতা বোনাস দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়েও পিডিবির পর্যালোচনায় প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রটির শীর্ষ ৪০টি পদের মধ্যে ৩২টিতেই ভারতীয় নাগরিক কর্মরত ছিলেন। বাংলাদেশের প্রকৌশলী ও ব্যবস্থাপনা জনবল বিদ্যুৎ খাতে একই ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর কেন্দ্র পরিচালনায় সক্ষম হওয়ার পরও রামপালে এত বিপুল সংখ্যক বিদেশি জনবল এবং তাদের জন্য উচ্চ পারিশ্রমিকের প্রয়োজনীয়তা কতটা—সেটিও পর্যালোচনার দাবি রাখে।
রামপাল প্রকল্পের মূলধনী বিনিয়োগের আকারও বিশাল। বিআইএফপিসিএলের তথ্য অনুযায়ী, ২×৬৬০ মেগাওয়াট প্রকল্পের ইপিসি ঠিকাদার ছিল ভারতের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ভারত হেভি ইলেকট্রিক্যালস লিমিটেড (বিএইচইএল)। এ চুক্তির মূল্য ছিল ১.৪৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
অর্থাৎ প্রকল্পটিতে বিপুল মূলধনী বিনিয়োগের পাশাপাশি উৎপাদন-পরবর্তী সময়ে ক্যাপাসিটি চার্জ, কয়লা ও অন্যান্য জ্বালানি ব্যয়, পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং বিদেশি জনবলের পারিশ্রমিকও বহন করতে হচ্ছে।
তাই রামপালের অর্থনৈতিক কার্যকারিতা শুধু কত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে—এ দিয়ে বিচার করা যথেষ্ট নয়। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের পূর্ণ ব্যয়, ক্যাপাসিটি পেমেন্ট, কয়লার দাম, পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং কেন্দ্রটির প্রকৃত প্ল্যান্ট লোড ফ্যাক্টর ও ডাউনটাইম—সবকিছুর সমন্বিত হিসাব প্রয়োজন।
রামপালের সমস্যাকে শুধু কয়লা সংকট দিয়ে ব্যাখ্যা করার সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। ২০২৩ সালে ডলার সংকটের কারণে কয়লা আমদানির অর্থ পরিশোধে সমস্যা হওয়ায় কেন্দ্র বন্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু একই সঙ্গে টারবাইন, বয়লার ও অন্যান্য যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেও একাধিকবার উৎপাদন বন্ধ হয়েছে।
সর্বশেষ এক বছরে ৩০টি সাটডাউনের মধ্যে ২৭টিই কারিগরি ত্রুটি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার তথ্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
এখন প্রয়োজন প্রতিটি সাটডাউনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য জনসমক্ষে আনা। কোন তারিখে কোন ইউনিট বন্ধ হয়েছে, কত ঘণ্টা বন্ধ ছিল, কোন যন্ত্রাংশ বিকল হয়েছে, যন্ত্রাংশ কোথা থেকে কেনা হয়েছে, মেরামতে কত টাকা ব্যয় হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সময়ে কয়লার মজুত কত ছিল, কত ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়নি এবং একই সময়ে কত ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করা হয়েছে—এসব তথ্য পাশাপাশি প্রকাশ করা জরুরি।
রামপাল নিয়ে প্রশ্নটি এখন আর শুধু একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিচালন সক্ষমতার প্রশ্ন নয়। এটি বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি পেমেন্ট, অতিরিক্ত সক্ষমতা, আমদানিনির্ভর জ্বালানি এবং বিদেশি পরিচালন জনবলের ব্যয়—এসব বৃহত্তর প্রশ্নের সঙ্গেও যুক্ত।
ক্যাপাসিটি চার্জ বিদ্যুৎ খাতের প্রচলিত চুক্তিগত ব্যবস্থার অংশ হতে পারে। কিন্তু কোনো কেন্দ্র যদি ঘন ঘন কারিগরি সমস্যায় বন্ধ থাকে, কয়লা সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং একই সময়ে বিপুল ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করতে হয়, তাহলে চুক্তির অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা নতুন করে যাচাই করা জরুরি।
রামপালের ক্ষেত্রে অন্তত তিনটি প্রশ্নের জবাব এখন প্রয়োজন। প্রথমত, ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কেন্দ্রটির প্রকৃত নির্ভরযোগ্য উৎপাদনক্ষমতা কত? দ্বিতীয়ত, দুই বছরে ৪ হাজার ৬৩৬ কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধের বিপরীতে বাংলাদেশ প্রকৃতপক্ষে কত বিদ্যুৎ পেয়েছে এবং সেই বিদ্যুতের পূর্ণ ব্যয় কত? তৃতীয়ত, ৫১ জন ভারতীয় কর্মীর জন্য এক মাসে ১৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয়ের মতো ব্যবস্থা কতটা যৌক্তিক?
এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর স্বাধীন প্রযুক্তিগত ফরেনসিক অডিট, পূর্ণাঙ্গ আর্থিক পর্যালোচনা এবং জনবল ব্যয়ের বিশেষ নিরীক্ষা জরুরি। একই সঙ্গে ইপিসি চুক্তি, বয়লার-টিউব ও টারবাইন ত্রুটি, যন্ত্রাংশের উৎস ও স্পেসিফিকেশন, ওয়ারেন্টি দাবি, রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি, বিদেশি জনবল, ক্যাপাসিটি চার্জ এবং প্রতি ইউনিট প্রকৃত ব্যয়—সবকিছুকে একটি সমন্বিত নিরীক্ষার আওতায় আনা দরকার।