গত ১৭ বছর ধরে ব্যবসা পরিচালনা করছি।
বর্তমানে "Blue Dream Group"-এ মোট ১১টি কোম্পানি রয়েছে। আমার ব্যক্তিগতভাবে কোনো চাকরির অভিজ্ঞতা ছিল না। শূন্য থেকে ব্যবসা শুরু করায় আমি ব্যবসা থেকেই অভিজ্ঞতা তৈরি করেছি। পূর্বে চাকরির অভিজ্ঞতা থাকলে আমার জন্য অনেক ভালো হতো।
২০২৬ সাল পর্যন্ত এসে যেটা বুঝলাম, আমি অনেক ভুল সিস্টেমের ভিতর এগিয়ে এসেছি। যে কারণে আমি সবসময় প্রেসারে থাকতাম। এখন এমন কিছু সিস্টেম করেছি, যেখানে শর্টকাটে ১ বছরের কাজ এক মাসে শেষ করা যায়। এটা একটা পোস্টের মাধ্যমে বোঝানো সম্ভব নয়। ভিডিও করে পর্ব আকারে বলতে হবে। খুব দ্রুত এটা শুরু করব ইনশাআল্লাহ।
১। প্রথমে আপনি কী ব্যবসা শুরু করতে চান, এটা আগে নির্ধারণ করুন। আপনার অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি কী চাহিদা, খুব ভালোভাবে যাচাই করুন। আপনার পুঁজি কত এবং পুঁজি বাদে ন্যূনতম ৬ মাস চলার মতো টাকা জমা রাখুন।
২। আপনি যে পণ্য নিয়ে ব্যবসা শুরু করবেন, সেই পণ্য যদি অলরেডি মার্কেটে থাকে, তাহলে তাদেরকে টপকাতে হলে তাদের থেকে আনকমন সার্ভিস সিস্টেম এবং মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি সম্পূর্ণ আলাদা করুন। মনে রাখবেন, মানুষ ভালো জিনিস আর ভালো সার্ভিস পেলে টাকা নিয়ে কথা বলে না। দাম নিয়ে কথা না বলে কাস্টমারকে আপনার সার্ভিস সম্পর্কে কথা বলুন।
৩। ব্যবসা শুরু করতে হলে লোন কিংবা ব্যক্তির সুদের উপর টাকা নিয়ে ব্যবসা শুরু করবেন না। প্রয়োজনে অল্প করে শুরু করুন। যদি কেউ বাকি দেয়, সেটা নিতে পারেন। তবে দেখবেন, মার্কেট থেকে বেশি রেট ধরছে কি না। আর আপনি কোনোভাবেই প্রথমে কোনো বাকি সেল করবেন না।
৪। হোক ছোট কোম্পানি, আপনার প্রতিষ্ঠানকে কমপ্লায়েন্স ও অটোমেশন করুন। অর্থাৎ কোম্পানির নীতিমালা তৈরি করুন, সেই অনুযায়ী সফটওয়্যার তৈরি করুন। যাতে ঝামেলা ছাড়া সহজে সবকিছু করা যায়।
৫। আপনার সেলকে মাল্টিলেয়ারে পৌঁছাতে হবে। অর্থাৎ একমুখী করলে হবে না। মানে শুধু শোরুম কেন্দ্রিক কিংবা ফেসবুক পেজ কেন্দ্রিক করলে হবে না।
৬। কাউকে বিশ্বাস করবেন না। প্রতিটি বিষয় যাচাই করুন, অডিট করুন। চেষ্টা করবেন প্রথম দিকে নিজেই সবকিছু করতে। যখন ব্যবসা বড় হবে, তখন কর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিন। কিন্তু প্রথম দিকে নিজেই সবকিছু দেখবেন।
৭। যে ব্যবসা করতে চান, সেই ব্যবসার ভালো এবং খারাপ দিকগুলো আগে জানুন এবং খারাপ দিক থেকে উত্তরণের পথ খুঁজুন। মনে রাখবেন, ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না।
৮। প্রয়োজনে যে ব্যবসা করবেন, সেটা নিয়ে ট্রেনিং বা বাস্তবমুখী অভিজ্ঞতা তৈরি করুন—চাকরি করে কিংবা সেই ব্যবসায় ফ্রি সার্ভিস দিয়ে।
৯। আপনার নিজেকে ৩৬০ ডিগ্রি জ্ঞান রাখতে হবে। কারণ একজন ব্যবসায়ীর সকল বিষয়ে জ্ঞান থাকা জরুরি। অন্যথায় যেকোনো সময় যেকোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
১০। কোম্পানি খুললে কোম্পানির সকল কাগজপত্র তৈরি করুন। ভ্যাট, ট্যাক্স নিয়ে জ্ঞান রাখুন। ব্যবসা শুরুর সময় কোনো প্রবলেম না হলেও পরবর্তীতে বড় ধরনের প্রবলেম সৃষ্টি হয়।
১১। কাস্টমারের সাথে রেগুলার যোগাযোগ রাখুন। কর্মীর উপর ডিপেন্ড হবেন না। কাউকে বিশ্বাস না করাই ভালো। যেকোনো কাজ করতে হলে প্রপার সিস্টেমে, প্রমাণসহ কাজ করুন।
মনে রাখবেন, আজকে যে বন্ধু, কালকে সে শত্রু হবে।
১২। প্রতি মুহূর্তে নিজেকে আপডেট করুন। কোম্পানি আপডেট করতে হলে আগে আপনাকে আপডেট করুন। ২০২৬ সালে এসে ২০৩০ সালের পলিসি নিয়ে কাজ করুন। অন্যদের থেকে এগিয়ে যাওয়ার এটাই সবচেয়ে বড় কৌশল।
১৩। কর্মী নিয়োগ দিতে হলে তার সম্পর্কে সবকিছু যাচাই করুন। একজন খারাপ কর্মী আপনার ব্যবসা ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। প্রতিটি স্টাফের প্রতিদিনের কাজের রিপোর্ট নিন। পরের দিনের প্ল্যান আগের দিনেই শেষ করুন।
১৪। একটি কোম্পানিকে বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টে ভাগ করুন। প্রতিটি ডিপার্টমেন্টের কাজ আলাদাভাবে বুঝে নিন। তাদেরকে বিভিন্ন উপহার দিন এবং সময়মতো বেতন, বোনাস—সবকিছু বুঝিয়ে দিন।
১৫। লেনদেন সবসময় ভালো রাখবেন। পাওনাদার চাওয়ার আগে দিয়ে দেবেন। কেনাকাটা সব নিজের ভিতর রাখবেন। কোথা থেকে কী করছেন, এটা সকল কর্মীকে না জানানো ভালো।
১৬। সর্বশেষ, যেকোনো কাজ করার আগে ১০০ বার ভাববেন। কারণ একটা ভুলে আপনার বিজনেস ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।