নিউজ বাংলা ডেস্ক : অর্থনৈতিক গতি ফেরানো ও দেশের আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে আটটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক ও বীমা কোম্পানিতে ৩৬০ বিলিয়ন ইউয়ান বিনিয়োগ করছে চীন। বাংলাদেশি মুদ্রায় নয়, মার্কিন হিসাবে এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৫৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, চীনের অর্থ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে এই অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও বীমা কোম্পানিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলার সামর্থ্যও জোরদার হবে।
এই উদ্যোগের আওতায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক অব চায়না, অ্যাগ্রিকালচারাল ব্যাংক অব চায়না এবং চায়না এক্সপোর্ট অ্যান্ড ক্রেডিট ইনস্যুরেন্স করপোরেশনসহ মোট আটটি বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তিনটি বড় ঋণদাতা এবং পাঁচটি বীমা কোম্পানি।
চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন মূলধন সহায়তার ফলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসা এবং উৎপাদন খাতে ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে পারবে। পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা থেকে তৈরি বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীন বর্তমানে একাধিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত বিরোধ, দীর্ঘস্থায়ী আবাসন সংকট এবং কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কমে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে। একই সময়ে দেশটিতে বয়স্ক মানুষের সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে।
সম্প্রতি ইরান যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দামে ওঠানামা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমে যাওয়ায় এই চাপ আরও বেড়েছে। শক্তিশালী রপ্তানি থাকা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বছরের প্রথম তিন মাসে চীনের অর্থনীতি ৫ শতাংশ হারে বাড়লেও দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৪ দশমিক ৩ শতাংশে। এই হার সরকারের নির্ধারিত বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম।
চলতি বছরে চীন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে রেখেছে। ১৯৯১ সালের পর এটিই দেশটির সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক স্থিতিশীলতাকে জাতীয় নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করে আসছেন। নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংক ও বীমা খাতের আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করে অর্থনীতিতে গতি ফেরানোর চেষ্টা করছে বেইজিং।