
নিউজ বাংলা ডেস্ক: সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ থেকে আমানত ফেরত নিতে চার দিনে ৭৪ হাজার ২২১টি আবেদন জমা পড়েছে। এসব আবেদনের বিপরীতে মোট ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা উত্তোলনের দাবি করা হয়েছে।
তবে নতুন ব্যাংক গঠনের পর বিপুলসংখ্যক আমানতকারী একযোগে অর্থ তুলে নিতে পারেন—এমন যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, আবেদন ও দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ বাস্তবে তার তুলনায় অনেক কম। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের মতে, তুলনামূলক কমসংখ্যক গ্রাহকের অর্থ উত্তোলনের আবেদন নবগঠিত ব্যাংকের প্রতি আমানতকারীদের আস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, আমানতকারীদের একটি বড় অংশ অর্থ ব্যাংকে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এতে ব্যাংকের প্রতি তাদের আস্থা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় ব্যাংকের সক্ষমতার ওপর বিশ্বাসের বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।
ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, আবেদন গ্রহণের প্রথম দিনে ১৮ হাজার ৪৬টি আবেদনের বিপরীতে ১ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা উত্তোলনের দাবি আসে। দ্বিতীয় দিনে ১৯ হাজার ৬১৩টি আবেদনে চাওয়া হয় ১ হাজার ১৬ কোটি টাকা। তৃতীয় দিনে ২১ হাজার ৮৬টি আবেদনের বিপরীতে ৯২৩ কোটি এবং চতুর্থ ও শেষ দিনে ১৫ হাজার ৪৭৬টি আবেদনের বিপরীতে ৬৫৭ কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন জমা পড়ে।
এদিকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যেসব আমানতকারী তাদের অর্থ ব্যাংকে রেখে দেবেন, তারা নিজ নিজ হিসাবের চুক্তিতে নির্ধারিত হারে মুনাফা পাবেন।
আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, ব্যাংকের কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে এলে প্রচলিত নিয়ম ও বিদ্যমান বিধিবিধান অনুযায়ী আমানতকারীরা মুনাফাসহ যেকোনো পরিমাণ অর্থ জমা ও উত্তোলন করতে পারবেন।
এর আগে গত ৩১ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক রেজল্যুশন বিভাগ আমানতকারীদের অর্থ উত্তোলনসংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক ব্যক্তিগত হিসাবধারীদের মূল আমানত উত্তোলনের আবেদন গ্রহণ শুরু করে। সোমবার ছিল আবেদন গ্রহণের শেষ দিন।
পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে গঠিত নতুন এই ব্যাংককে ঘিরে আমানতকারীদের মধ্যে শুরুতে অর্থ তুলে নেওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা থাকলেও চার দিনের আবেদন পরিস্থিতিতে সে ধরনের ব্যাপক চাপ দেখা যায়নি। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এটিকে গ্রাহকদের আস্থার ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছে।