নিউজ বাংলা ডেস্ক : ইউক্রেন সংঘাত অবসানে কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মস্কোর ক্রেমলিনে প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। আলোচনায় সম্ভাব্য শান্তি প্রস্তাবের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়েও কথা হয়েছে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
বৈঠক শেষে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে আলোচনাটিকে ‘গঠনমূলক ও খোলামেলা’ বলে বর্ণনা করা হয়। রাশিয়ার বিশিষ্ট কূটনীতিক ইউরি উশাকভ জানান, ইউক্রেন সংঘাতের মূল কারণগুলো কীভাবে সমাধান করা যায় এবং যুদ্ধক্ষেত্রের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সম্ভাব্য পথ খুঁজে বের করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
আলোচনার সময় পুতিন ট্রাম্পের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধিদের প্রতি নিজের উচ্চ আস্থার কথাও জানান তিনি।
মার্কিন দূতদের পরবর্তী ইউক্রেন সফর নির্বিঘ্ন করতে কিয়েভ শহরে তিন দিনের জন্য ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন পুতিন। তবে এই সাময়িক হামলা স্থগিতাদেশ পুরো ইউক্রেনের জন্য কার্যকর হবে না। মস্কো থেকে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন উইটকফ ও কুশনার। সংঘাত শুরুর পর এটিই তাদের প্রথম কিয়েভ সফর।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মার্কিন প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়েছেন। একই সময়ে ইউক্রেনও আগামী তিন দিন মস্কোতে কোনো হামলা চালাবে না বলে আশ্বাস দিয়েছে।
তবে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ চললেও যুদ্ধক্ষেত্রে হামলা বন্ধ হয়নি। মার্কিন দূতদের সফরের ঠিক আগে কিয়েভ ও বোরিসপিল বিমানবন্দর এলাকায় হামলা চালায় রুশ বাহিনী। একই সময়ে দনিপ্রো অঞ্চলের বেসামরিক এলাকাতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে, যাতে একাধিক প্রাণহানি ঘটেছে।
বর্তমানে ইউক্রেন আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের সংকটে রয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়া দাবি করছে, ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তারা অগ্রসর হচ্ছে।
আকাশসীমা বন্ধ রাখা এবং দখলে থাকা ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এখনও তীব্র মতপার্থক্য রয়েছে। এর মধ্যেও ওয়াশিংটন, মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে ধারাবাহিক যোগাযোগকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।