
নিউজ বাংলা ডেস্ক: দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি নির্দিষ্ট উৎসের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিক সংকট ও যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহে ঝুঁকি কমাতে বিকল্প উৎসের সন্ধানের পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ, বর্জ্য থেকে জ্বালানি, নতুন উৎস থেকে এলএনজি আমদানি এবং সমুদ্রসম্পদভিত্তিক অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আসন্ন ৮১তম অধিবেশন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ বা বড় কোনো সংকটের সময় একটি মাত্র জ্বালানি উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে। এ ঝুঁকি কমাতেই জ্বালানি খাতে উৎসের বৈচিত্র্য আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, আফ্রিকার কয়েকটি দেশের সঙ্গে বিকল্প জ্বালানি উৎস নিয়ে সরকারের আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে দেশে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো, বর্জ্যকে জ্বালানিতে রূপান্তর এবং এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে নতুন উৎস নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সমুদ্রসম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে ‘ব্লু ইকোনমি’ সম্প্রসারণের বিষয়টিও সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে।
সৌরবিদ্যুতের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এই খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ইতোমধ্যে শতভাগ সৌরবিদ্যুতের আওতায় এসেছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সরকারি অফিস ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাতেও সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন নিয়েও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে চীন ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে বলে জানান শামা ওবায়েদ। পাশাপাশি এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে একাধিক উৎস নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে, যাতে কোনো একটি আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দিলে দেশে বড় ধরনের সংকট তৈরি না হয়।
অনুষ্ঠানে অর্থনৈতিক কূটনীতিকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদেশি ও দেশীয় বিনিয়োগ বাড়াতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের হয়রানি কমাতে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’-এর আদলে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি সেবাকে আরও সহজ ও দ্রুত করতে ডিজিটাল ব্যবস্থার সম্প্রসারণও করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি নতুনভাবে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। শামা ওবায়েদের মতে, বন্যা, অবৈধ অভিবাসন কিংবা বিভিন্ন সংকটের মধ্যেই বাংলাদেশের পরিচয় সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না সরকার। দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতি, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সংস্কৃতির ইতিবাচক দিকগুলো আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ বলে উল্লেখ করেন শামা ওবায়েদ। গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসার পর নতুন বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে এই অধিবেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি জানান, এবারের অধিবেশনে উন্নয়নের অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারি মোকাবিলা ও পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণের মতো বৈশ্বিক ইস্যুতে আলোচনা হবে। এর পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের বিষয়টিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরবে বাংলাদেশ।
শামা ওবায়েদ বলেন, কোনো বড় পরিবর্তন একদিনে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। তবে দেশের বিভিন্ন খাতে গুণগত পরিবর্তন আনার কাজ শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল ও সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরাই সরকারের লক্ষ্য।