
নিউজ বাংলা ডেস্ক: লিওনেল মেসি যেন বিস্ময়েরই আরেক নাম। হ্যাটট্রিক পূর্ণ করার পর ধারাভাষ্যকারের মুখে শোনা গিয়েছিল এমন কথাই। তবে আর্জেন্টাইন মহাতারকা সেখানেই থামেননি। হ্যাটট্রিকের পর যোগ করেছেন আরও একটি গোল—সেটিও ফ্রি-কিক থেকে। মেসির চার গোল আর এক অ্যাসিস্টে ভর করে ইন্টার মিয়ামি তুলে নিয়েছে ক্লাব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়।
এমএলএসের ম্যাচে সিএফ মন্ট্রিয়লকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছে মিয়ামি। এই জয়ের মধ্য দিয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচ জয়হীন থাকার হতাশাও কাটিয়েছে দলটি।
ম্যাচের আগে মিয়ামিকে ঘিরে ছিল অনিশ্চয়তা। দলের স্থায়ী কোচ এখনো দায়িত্ব নেননি, আর অন্তর্বর্তী কোচ গিয়ের্মো ওয়োসও নিষেধাজ্ঞার কারণে মাঠের পাশে থাকতে পারেননি। এমন পরিস্থিতিতে দলের নেতৃত্ব যেন নিজের কাঁধেই তুলে নিলেন মেসি।
৪০ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে মিয়ামিকে এগিয়ে দেন মেসি। তাঁর নেওয়া শট গোলরক্ষকের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। বিরতির পর ৫২ মিনিটে দুর্দান্ত এক ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। এরপর লুইস সুয়ারেজকে দিয়ে আরও একটি গোল করান আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।
ম্যাচ শেষ হওয়ার সাত মিনিট আগে মেসি পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক। গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে নিখুঁত চিপে বল জালে পাঠিয়ে নিজের তৃতীয় গোলটি করেন তিনি। তাতেও শেষ হয়নি তাঁর গোল-উৎসব। ইনজুরি সময়ে আরও একটি ফ্রি-কিক নেন মেসি। এবারও বল ঠিকানা খুঁজে নেয় জালের কোণায়। পূর্ণ হয় তাঁর চার গোলের রাত।
ক্যারিয়ারে এ নিয়ে অষ্টমবার এক ম্যাচে অন্তত চার গোল করলেন মেসি। ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দেওয়ার পর এটিই তাঁর প্রথম চার গোলের ম্যাচ। এর আগে সর্বশেষ ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে বার্সেলোনার হয়ে এক ম্যাচে চার গোল করেছিলেন তিনি। সেই ম্যাচে বার্সেলোনার প্রতিপক্ষ ছিল এইবার।
মন্ট্রিয়লের বিপক্ষে চার গোল করার পর এমএলএসের চলতি মৌসুমের গোলদাতার তালিকাতেও শীর্ষে উঠে এসেছেন মেসি। ১৯ ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা ১৮। তাঁর পেছনে আছেন এফসি ডালাসের পিটার মুসা।
মিয়ামির বাকি গোলগুলোর একটি করেছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা কাসেমিরো। গ্রীষ্মে ক্লাবটিতে যোগ দেওয়ার পর এটাই তাঁর প্রথম গোল। ম্যাচের ৮৯ মিনিটে গোলের তালিকায় নাম লেখান ১৮ বছর বয়সী আলেকজান্ডার শ-ও।
মিয়ামির অন্তর্বর্তী কোচ গিয়ের্মো ওয়োস নিষেধাজ্ঞার কারণে মাঠের পাশে না থাকায় দল পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন সহকারী কোচ রাফায়েল পেরেজ। এদিকে নতুন স্থায়ী কোচ হিসেবে ক্রিস্টিয়ান ‘কিলি’ গঞ্জালেজের নাম ঘোষণা করা হলেও কাজের অনুমতিপত্র না পাওয়ায় তিনি এখনো দলের দায়িত্ব নেননি।
জুলাইয়ের ২৫ তারিখের পর এমএলএসে এটি মিয়ামির প্রথম জয়। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এর আগে টানা পাঁচ ম্যাচ জয়হীন ছিল তারা। সেই খরা কাটানোর রাতেই মেসির চার গোলের নৈপুণ্যে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়টি তুলে নিল মিয়ামি।
এই জয়ের পর ইস্টার্ন কনফারেন্সের পয়েন্ট টেবিলে দ্বিতীয় স্থান ধরে রেখেছে ইন্টার মিয়ামি। শীর্ষে রয়েছে ন্যাশভিল এসসি। বিপরীতে মন্ট্রিয়লের অবস্থান ১৪ নম্বরে।