বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ দায়িত্বের বিষয়টি জানানো হয়।
সরকারের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিগত সরকারের সময়ে বিভিন্ন জেলায় উন্নয়ন বরাদ্দের অর্থ দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাট ও পাচারের অভিযোগ রয়েছে। লুটপাট করা অর্থের একটি অংশ দেশের অভ্যন্তরে মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয় এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে দুর্নীতি প্রতিরোধ, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারকে অগ্রাধিকার দিয়েছে সরকার। এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে জেলা পর্যায়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের সমন্বয় এবং তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
দায়িত্বপ্রাপ্তরা মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার বন্ধ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং গুরুতর অপরাধ দমনে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারবেন। একই সঙ্গে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য কমানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অগ্রগতিও তারা পর্যবেক্ষণ করবেন।
প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট জেলার বিভিন্ন সভায় অংশ নিয়ে পরামর্শ দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। তবে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার আইনগত ক্ষমতা অক্ষুণ্ন রেখেই দায়িত্ব পালন করতে হবে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের।
কে কোন জেলার দায়িত্ব পেলেন
ইকবাল হাসান মাহমুদ রাজশাহী ও নাটোর; ড. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড়; আব্দুল আউয়াল মিন্টু লক্ষ্মীপুর; নিতাই রায় চৌধুরী চুয়াডাঙ্গা; খন্দকার আবদুল মুক্তাদির হবিগঞ্জ; আরিফুল হক চৌধুরী মৌলভীবাজার; মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি চট্টগ্রাম; এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা এবং আসাদুল হাবিব দুলু ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন।
মো. আসাদুজ্জামান দায়িত্ব পেয়েছেন খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের; জাকারিয়া তাহের ফেনী ও নোয়াখালীর; সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের; সাচিং প্রু কক্সবাজারের; মো. শরীফুল আলম টাঙ্গাইল ও নরসিংদীর এবং শামা ওবায়েদ ইসলাম মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের দায়িত্ব পেয়েছেন।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের দায়িত্ব মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ; আব্দুল বারীর বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ; সুলতান আহমেদ টুকুর ঢাকা; মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটি এবং হাবিবুর রশিদের গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ।
এ ছাড়া মো. রাজীব আহসান বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর; মীর শাহে আলম রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম; ফারজানা শারমিন সিরাজগঞ্জ ও পাবনা; শেখ ফরিদুল ইসলাম যশোর, মাগুরা ও নড়াইল; ইয়াসের খান চৌধুরী জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ; আহমেদ সোহেল মঞ্জুর বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠি; মোহাম্মদ শামীম কায়সার জয়পুরহাট ও নওগাঁ; মো. জি কে গউস সিলেট ও সুনামগঞ্জ; মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ এবং এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন।