প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 27, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 26, 2026 ইং
নীরব ঘাতক কোলেস্টেরল: কারণ, ঝুঁকি ও প্রতিরোধ
নিজেস্ব প্রতিবেদক : রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলেও অধিকাংশ মানুষের শরীরে শুরুতে কোনো স্পষ্ট উপসর্গ দেখা যায় না। ফলে অনেকেই রক্ত পরীক্ষা না করা পর্যন্ত বিষয়টি জানতে পারেন না। কিন্তু দীর্ঘদিন রক্তে বিশেষ করে এলডিএল (LDL) কোলেস্টেরল বেশি থাকলে ধমনির দেয়ালে প্লাক জমে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এতে হৃদ্রোগ, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।
সাধারণত কী কী লক্ষণ দেখা যায়?
উচ্চ কোলেস্টেরলের নিজস্ব কোনো নির্দিষ্ট লক্ষণ সাধারণত থাকে না। তবে দীর্ঘদিন কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকলে ধমনিতে প্লাক জমে হৃদ্রোগ বা অন্য রক্তনালির সমস্যা তৈরি হতে পারে। তখন বুকে ব্যথা বা চাপ, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অত্যন্ত বেশি এবং বংশগতভাবে পাওয়া কোলেস্টেরলের ক্ষেত্রে ত্বকে চর্বিযুক্ত গুটি বা চোখের কর্নিয়ার চারপাশে ধূসর-সাদা বলয় দেখা যেতে পারে।
তাই শুধু উপসর্গের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তের লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। এই পরীক্ষায় সাধারণত মোট কোলেস্টেরল, LDL, HDL ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা জানা যায়।
কেন বাড়ে কোলেস্টেরল?
অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট গ্রহণ, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অতিরিক্ত ওজন ও ধূমপানের মতো জীবনযাপনের অভ্যাস রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা অস্বাভাবিক করতে পারে। অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণও ঝুঁকি বাড়াতে পারে। পাশাপাশি বংশগত কারণ, ডায়াবেটিস, হাইপোথাইরয়েডিজম, কিডনি ও অন্যান্য কিছু রোগ এবং নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের প্রভাবেও কোলেস্টেরল বেড়ে যেতে পারে।
বেশি কোলেস্টেরলে কী হয়?
কোলেস্টেরলের গুরুত্বপূর্ণ দুই ধরনের মধ্যে LDL-কে সাধারণভাবে ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল এবং HDL-কে ‘ভালো’ কোলেস্টেরল বলা হয়। রক্তে LDL বেশি থাকলে ধমনির দেয়ালে প্লাক জমতে পারে। সময়ের সঙ্গে ধমনি সরু ও শক্ত হয়ে রক্ত চলাচলে বাধা তৈরি করতে পারে। এর ফলে করোনারি হৃদ্রোগ, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজের ঝুঁকি বাড়ে।
নিয়ন্ত্রণে কী করবেন?
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফল, ডাল, গোটা শস্য, বাদাম ও বীজের মতো স্বাস্থ্যকর খাবার রাখা যেতে পারে। ওটস, ডাল ও বিভিন্ন শস্যে থাকা দ্রবণীয় আঁশ LDL কমাতে সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানো উপকারী।
নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং ধূমপান বন্ধ করাও কোলেস্টেরল ও হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। কারও ক্ষেত্রে শুধু জীবনযাত্রার পরিবর্তন যথেষ্ট না হলে চিকিৎসক কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ, যেমন স্ট্যাটিন, দেওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
রক্ত পরীক্ষায় কোলেস্টেরল বেশি ধরা পড়লে নিজের মতো করে ওষুধ শুরু বা বন্ধ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বয়স, পারিবারিক ইতিহাস, রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপানের অভ্যাস এবং অন্যান্য ঝুঁকি বিবেচনা করে চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসার পরিকল্পনা করতে পারেন।
বুকে তীব্র বা চাপধরনের ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, হঠাৎ দুর্বলতা বা স্ট্রোকের মতো জরুরি লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। নিয়মিত পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও সক্রিয় জীবনযাপনের মাধ্যমে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।