
নিজস্ব প্রতিনিধি: খুব ছোট্ট একটি পরিবারে জন্মগ্রহন করেছি সেই দিনটি ছিল ঈদুল আযহার রোজ: শনিবার, সকাল: ৭:৫৫ মিনিটে আমি জন্মগ্রহণ করেছি। তারিখটি ছিল: ১১ জুন ১৯৯৪ সাল । জীবনের শুরুটা ছিল সীমিত স্বপ্ন, অভাব-অনটন, নানা প্রতিকূলতা আর অসংখ্য সংগ্রামের গল্পে ভরা। জীবনের পথ কখনো মসৃণ ছিল না। একের পর এক বাধা, হতাশা, মানসিক কষ্ট, অবহেলা আর নির্ঘুম রাত পেরিয়ে ধীরে ধীরে নিজের স্বপ্নের দিকে এগিয়ে গেছেন রাকিবুল ইসলাম রুবেল।
আজ তিনি শুধু নিজের জন্য স্বপ্ন দেখেন না; তার স্বপ্নের পরিধি ছড়িয়ে গেছে সমাজের অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবন পর্যন্ত। মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজের জন্য কিছু করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থেকেই গড়ে তুলেছেন স্বাধীন যুব উন্নয়ন সংস্থা।
রুবেলের জীবনযাত্রার গল্প মূলত একজন সাধারণ মানুষের অসাধারণ স্বপ্ন দেখার গল্প। ছোটবেলা থেকেই জীবনের বাস্তবতা তাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও তিনি বিশ্বাস করেছেন-ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম, সততা ও ধৈর্য থাকলে মানুষ তার অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে।
নিজের জীবনের নানা প্রতিকূলতার কথা বলতে গিয়ে রুবেল বলেন, জীবনের শুরুটা সহজ ছিল না। অনেক সময় এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, যখন মনে হয়েছে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সব পথ যেন বন্ধ হয়ে গেছে। পাশে কাউকে না পেলেও তিনি থেমে যাননি। নিজের ওপর বিশ্বাস রেখেছেন এবং মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে সামনে এগিয়ে গেছেন।
তার কাছে জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন অর্থ-সম্পদ নয়। পরিবার, মানুষের ভালোবাসা, মানুষের বিশ্বাস এবং সমাজের জন্য কাজ করার সুযোগই তার কাছে সবচেয়ে বড় সম্পদ।
রুবেল মনে করেন, অর্থ দিয়ে জীবনের সবকিছু কেনা যায় না। মানুষের ভালোবাসা ও সম্মান অর্জন করতে হলে নিজের পরিশ্রম, সততা, নিষ্ঠা এবং মানবিকতা দিয়ে তা অর্জন করতে হয়।
এই বিশ্বাস থেকেই তরুণ বয়সে সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন তিনি। ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন স্বাধীন যুব উন্নয়ন সংস্থা। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, যুবসমাজকে দক্ষ করে তোলা, শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন মানবিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলেছেন তিনি।
রুবেলের বিশ্বাস, একজন মানুষের বয়স তার স্বপ্নের সীমা নির্ধারণ করে না। বরং মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছা, সততা, সাহস এবং কাজের প্রতি নিষ্ঠাই একজন মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
তিনি বলেন, “বয়স নয়, মানুষের জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করার ইচ্ছাই একজন মানুষকে বড় করে তোলে। আমি হয়তো এখনো অনেক ছোট, কিন্তু মানুষের জন্য আমার স্বপ্ন অনেক বড়।”
তার জীবনের অন্যতম বড় অনুপ্রেরণা তার পরিবার। স্ত্রী, সন্তান ও মা-বাবাকে ঘিরেই তার ব্যক্তিগত জীবনের আবেগ ও স্বপ্ন। পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছাকে তিনি জীবনের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে দেখেন।
তবে এই পথচলায় তাকে অনেক ত্যাগও স্বীকার করতে হয়েছে। কখনো আর্থিক সংকট, কখনো মানসিক চাপ, কখনো ব্যর্থতা-সবকিছুর মধ্য দিয়েই তাকে এগিয়ে যেতে হয়েছে। এমনও সময় গেছে, যখন নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা আদৌ সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কিন্তু প্রতিকূলতা তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি।
বরং প্রতিটি বাধাকে তিনি নতুন করে শেখার সুযোগ হিসেবে নিয়েছেন।
রুবেলের কাছে সফলতা মানে শুধু নিজের অবস্থার পরিবর্তন নয়। তার কাছে সফলতা হলো-তার কারণে যদি একজন অসহায় মানুষ উপকৃত হয়, একজন তরুণ নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ পায় কিংবা একটি পরিবারের মুখে হাসি ফুটে ওঠে, সেটিই বড় অর্জন।
তবে তার স্বপ্ন এখানেই শেষ নয়। তিনি চান, স্বাধীন যুব উন্নয়ন সংস্থা শুধু তার জীবদ্দশায় নয়, ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে থাকুক।
রুবেলের সবচেয়ে বড় স্বপ্নগুলোর একটি হলো-একদিন তিনি এই পৃথিবীতে না থাকলেও যেন তার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মানুষের উপকারের কাজ চলতে থাকে।
তিনি বলেন, “মানুষ চিরদিন পৃথিবীতে থাকে না। একদিন আমিও থাকব না-এটাই জীবনের নিয়ম। কিন্তু আমার স্বপ্ন, আমি না থাকলেও স্বাধীন যুব উন্নয়ন সংস্থা যেন মানুষের পাশে থাকে। নতুন প্রজন্মের কেউ যেন এই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নিয়ে মানুষের সেবার কাজ এগিয়ে নিয়ে যায়।”
নিজের পরিচয়ের চেয়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচয়কে বড় করে দেখার স্বপ্নও রয়েছে তার।
রুবেল চান, একদিন মানুষ তাকে ব্যক্তিগতভাবে মনে রাখুক বা না রাখুক, কিন্তু স্বাধীন যুব উন্নয়ন সংস্থার নামটি যেন মানুষের আস্থার সঙ্গে উচ্চারিত হয়। মানুষ যেন বলতে পারে-“স্বাধীন যুব উন্নয়ন সংস্থা মানুষের পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে।”
তার কাছে এটিই হবে জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য।
রুবেল বিশ্বাস করেন, একটি প্রতিষ্ঠান কেবল একটি নাম, কার্যালয় বা কিছু কার্যক্রমের সমষ্টি নয়। একটি প্রতিষ্ঠান তখনই সত্যিকার অর্থে সফল হয়, যখন মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়াতে পারে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের ভূমিকা রাখতে পারে।
সেই লক্ষ্যেই তিনি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করে যেতে চান। ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় রয়েছে তার।
তার জীবনদর্শন খুব সহজ-নিজে ভালো থাকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি অন্য একজন মানুষকে ভালো রাখার চেষ্টা করাও গুরুত্বপূর্ণ।
মহান আল্লাহর কাছে তিনি শক্তি, ধৈর্য, সততা ও সাহস কামনা করেন। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে যেন সঠিক পথে থাকতে পারেন এবং মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে পারেন-এটাই তার প্রার্থনা।
রুবেল বলেন, “আমি চাই, যতদিন বেঁচে থাকি, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষের জন্য কাজ করে যেতে। আমার জীবনের সব অর্জনের চেয়ে মানুষের দোয়া আমার কাছে অনেক বেশি মূল্যবান।”
ছোট্ট একটি পরিবার থেকে উঠে এসে বড় স্বপ্ন দেখার এই যাত্রায় এখনো অনেক পথ বাকি। সামনে রয়েছে আরও অনেক চ্যালেঞ্জ, আরও অনেক কাজ এবং আরও অনেক স্বপ্ন।
তবে রুবেল জানেন-স্বপ্ন যত বড়ই হোক, পথ যত কঠিনই হোক, থেমে গেলে চলবে না।
তার পথচলার মূল শক্তি তাই একটাই-মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছা এবং মহান আল্লাহর ওপর বিশ্বাস।
তিনি সকলের কাছে নিজের এবং স্বাধীন যুব উন্নয়ন সংস্থার জন্য দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।
তার স্বপ্ন, স্বাধীন যুব উন্নয়ন সংস্থাকে একদিন প্রজন্মের পর প্রজন্ম মানুষের সেবার একটি বিশ্বস্ত ঠিকানা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। আর সেই স্বপ্নের পথচলায় স্বাধীন যুব উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক রাকিবুল ইসলাম রুবেল বিশ্বাস করেন-মানুষের জন্য কাজ করার ইচ্ছার কোনো সীমা নেই। সীমিত সামর্থ্য নিয়ে শুরু করা একজন মানুষও যদি সততা, নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে এগিয়ে যায়, তাহলে একদিন তার স্বপ্ন অন্য মানুষের স্বপ্নেরও আশ্রয় হয়ে উঠতে পারে। রাকিবুল ইসলাম রুবেলের স্বপ্ন-স্বাধীন যুব উন্নয়ন সংস্থা যেন মানুষের পাশে ছিল, আছে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম মানুষের পাশে থাকে।