
নিউজ বাংলা ডেস্ক: ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে উল্লেখযোগ্য অবনতি দেখা গেছে। গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে প্রায় ৬ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। একই সঙ্গে শূন্য শতাংশ পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বেড়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ তথ্য জানান।
ফল প্রকাশের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পাসের হার কমে যাওয়ার বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “মন খুলে গান গাওয়া যায়, পরীক্ষায় নম্বর দেওয়া যায় না।”
শিক্ষকরা খাতা মূল্যায়ন ও নম্বর প্রদানে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, পরীক্ষায় নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত উদারতা দেখানোর সুযোগ নেই। মূল্যায়ন অবশ্যই নির্ধারিত নীতিমালা ও মানদণ্ড অনুসরণ করেই করতে হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার শূন্য শতাংশ পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭টি, যা গত বছর ছিল ৪৮টি। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে এ সংখ্যা বেড়ে ২২৬টি হয়েছে, যেখানে ২০২৫ সালে ছিল ৮৬টি। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে গত বছর কোনো প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাসের হার না থাকলেও এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯টিতে।
শিক্ষাবিদদের মতে, ফলাফলের এই নিম্নমুখী প্রবণতা শিক্ষার মান, মূল্যায়ন পদ্ধতি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, কঠোর ও মানসম্মত মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত শিক্ষাগত অর্জন প্রতিফলিত করাই এবারের ফলাফলের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
ফল প্রকাশের পর বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অভিভাবকদের মধ্যে এ ফলাফল নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিশেষ করে পাসের হার এবং জিপিএ-৫ কমে যাওয়ার বিষয়টি শিক্ষাঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে ।