নিউজ বাংলা ডেস্ক : ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্ক ও অভিযোগের পেছনে ‘পরিকল্পিত অপপ্রচার ও ভিত্তিহীন আক্রমণ’ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। তাদের দাবি, ইনফান্তিনোর নেতৃত্বকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে ধারাবাহিকভাবে এসব প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি টেলিগ্রাফ’-এর একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, উয়েফার সাধারণ সম্পাদক থাকার সময় ইনফান্তিনোর সঙ্গে এক নারীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল এবং পরবর্তী সময়ে ওই নারীকে উয়েফা থেকে বড় অঙ্কের বিদায়ী ভাতা দেওয়া হয়। তবে ফিফার একজন মুখপাত্র অভিযোগটি সরাসরি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন।
এরপর আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ফিফা জানায়, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত জল্পনা ও অনুমানকে কোনোভাবেই তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়।
ইনফান্তিনোকে ঘিরে বিতর্ক অবশ্য শুধু এই অভিযোগে সীমাবদ্ধ নয়। সম্প্রতি ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) প্রস্তাব নিয়েও ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফাসহ কয়েকটি দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।
ওই প্রস্তাবের আওতায় ফিফার বাণিজ্যিক ও টিকিট স্বত্ব পরিচালনার জন্য একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন সংস্থাটির ২১ শতাংশ শেয়ার একটি বেসরকারি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির কথা ছিল।
ইউরোপজুড়ে তীব্র বিরোধিতার মুখে শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবটি বাতিল করা হয়। তবে এরপর উয়েফা জানায়, ইনফান্তিনোর ওপর তাদের আস্থা আর নেই। গত শুক্রবার নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (এনএফএফ) সভাপতি লিস ক্লাভনেসও ফিফা সভাপতির পদত্যাগ দাবি করেন।
এমনকি প্রয়োজনে ফিফার বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও টুর্নামেন্ট বয়কট করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে উয়েফা।
এর বিপরীতে শনিবার ফিফা তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানায়, ইনফান্তিনো সদস্য দেশগুলোর ভোটে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। সংস্থাটির ভাষ্য, কিছু পক্ষ সংঘবদ্ধভাবে ফিফা ও এর সভাপতির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। সদস্য দেশগুলোর সমর্থন না থাকায় এসব পক্ষ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে মনগড়া অভিযোগ, কুৎসা ও ভুল তথ্যের মাধ্যমে নিজেদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে চাইছে।
ইনফান্তিনোর বিরোধিতা মূলত ইউরোপের ফুটবল প্রশাসনকেন্দ্রিক হলেও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের কয়েকটি শক্তিশালী ফুটবল সংস্থা তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনমেবল এবং মেক্সিকান ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের পূর্ণাঙ্গ ভোট ছাড়া ইনফান্তিনোকে সরানোর কোনো উদ্যোগ তারা মেনে নেবে না। একইভাবে আফ্রিকার ৫৪টি দেশ নিয়ে গঠিত কাফও ফিফা সভাপতির প্রতি সম্মিলিত সমর্থন প্রকাশ করেছে।
এর আগে গত বুধবার মরক্কোর রাবাতে বোর্ড সদস্যদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন ইনফান্তিনো। সেখানে ফিফা মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রোম ও ইনফান্তিনোর পক্ষ থেকে বিতর্কিত এফএফই প্রস্তাব নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করা হয়। তবে একই সঙ্গে সংস্থার সততা ও সুশাসনের বিষয়ে কোনো ধরনের আঘাত আর মেনে নেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়।
ফিফা আরও বলেছে, পরিবর্তন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। তবে সে কারণে নির্বাচিত সভাপতির গণতান্ত্রিক কর্তৃত্ব অস্বীকার করা যায় না। গঠনমূলক সমালোচনাকে সংস্থা স্বাগত জানালেও সত্য বিকৃত করে ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলার সুযোগ দেওয়া হবে না।
ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর ক্ষেত্রে ফিফা প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কঠোরভাবে জবাব দেবে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।