
নিউজ বাংলা ডেস্ক : মানবপাচারের শিকার হয়ে বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা ও আলোকচিত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানবপাচারের বহুমাত্রিক বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) প্রকাশিত ‘লিসেন’ ফটোবুকে। দেশে মানবপাচার থেকে বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রকাশিত এটিই প্রথম ফটোবুক।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকার জাতিসংঘ কার্যালয় (ইউএন হাউস) আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে বইটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পরে ‘লিসেন’-এ স্থান পাওয়া আলোকচিত্র ও বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের জীবনকাহিনি নিয়ে আয়োজিত প্রদর্শনীও উদ্বোধন ও পরিদর্শন করেন অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, এমপি, আইওএমের উপমহাপরিচালক (অপারেশনস) উগোচি ড্যানিয়েলস, বাংলাদেশে জাতিসংঘের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেঝনিয়াক এবং কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কোইকা) বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম। এ ছাড়া বিভিন্ন দূতাবাস, জাতিসংঘের সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী ও বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
কোরিয়া আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (কোইকা) সহায়তায় ফটোবুকটি প্রকাশ করেছে আইওএম।
‘লিসেন’ শুধু আলোকচিত্রের সংকলন নয়; এতে নারী, পুরুষ, কিশোরী ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও মানবিক গল্প তুলে ধরা হয়েছে। বইটির মাধ্যমে পরিসংখ্যানের বাইরেও সামাজিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা কীভাবে মানুষকে শোষণের ঝুঁকিতে ঠেলে দেয়, সেই বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আইওএমের অপারেশনস বিষয়ক উপমহাপরিচালক উগোচি ড্যানিয়েলস বলেন, “‘লিসেন’-এ আমরা যে গল্পগুলো দেখছি, সেগুলো অসংখ্য অজানা গল্পের মাত্র একটি অংশ।
‘লিসেন’ বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে এবং আমাদের সবাইকে মানবপাচার প্রতিরোধ ও ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের সুরক্ষার যৌথ দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।”
বাংলাদেশে জাতিসংঘের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেচনিয়াক বলেন, মানবপাচার সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে ‘লিসেন’ একটি শক্তিশালী উদ্যোগ। পাশাপাশি, মানবপাচার প্রতিরোধ ও মানবাধিকার সুরক্ষায় বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও এতে তুলে ধরা হয়েছে।
কোইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম মানবপাচার থেকে বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের কেন্দ্র করে সহায়তা আরও জোরদার করার কথা জানান। একই সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে মানবপাচার প্রতিরোধে কোইকার অব্যাহত সহযোগিতার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন।
আইওএম জানায়, কোইকার সহযোগিতায় তৈরি ‘লিসেন’ ফটোবুকটি মানবপাচার প্রতিরোধ, বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের সুরক্ষা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সংস্থাটির চলমান কার্যক্রমের অংশ। প্রকাশনাটি মানবপাচারের বিভিন্ন ধরন এবং মানুষকে শোষণের ঝুঁকিতে ফেলে এমন জটিল পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও গভীর উপলব্ধি তৈরিতে সহায়ক হবে।
বিশ্ব মানবপাচার প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচির অংশ হিসেবেও অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মানবপাচার প্রতিরোধ, ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা, অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা এবং অংশীদারদের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার, জাতিসংঘ, উন্নয়ন সহযোগী ও নাগরিক সমাজের মধ্যে টেকসই সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে অতিথিরা আলোকচিত্র প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন এবং ‘লিসেন’-এ উঠে আসা আলোকচিত্র ও জীবনগল্প সম্পর্কে জানেন। এ সময় মানবপাচার, শোষণ ও নির্যাতনমুক্ত ভবিষ্যৎ গড়তে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তারা।