
নিউজ বাংলা ডেস্ক: নতুন অর্থবছরের শুরুতেই রপ্তানি আয়ে ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের জুলাই মাসে দেশের মোট পণ্য রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ০.৯০ শতাংশ কমে ৪৭২ কোটি ৭৪ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকেও ১.৯২ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সোমবার প্রকাশিত রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তবে মাসভিত্তিক হিসাবে ইতিবাচক চিত্র দেখা গেছে। জুনের তুলনায় জুলাইয়ে মোট রপ্তানি ১২.৪৯ শতাংশ এবং তৈরি পোশাক রপ্তানি ১৪.৭৩ শতাংশ বেড়েছে।
ইপিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত বছরের জুলাইয়ে রপ্তানির ভিত্তি তুলনামূলক বেশি থাকায় এবার বার্ষিক হিসাবে সামান্য নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তাও এতে প্রভাব ফেলেছে।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, গ্যাস-সংকট ও বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও পোশাক রপ্তানির বর্তমান অবস্থান সন্তোষজনক। তবে ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন (ইউডি) ২.৮ শতাংশ কমে যাওয়ায় সামনে কিছুটা চাপের আশঙ্কা রয়েছে।
জুলাইয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৩৮৮ কোটি ৬৭ লাখ ২০ হাজার ডলার। অন্যদিকে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, প্রকৌশল পণ্য এবং ওষুধশিল্পে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দীর্ঘমেয়াদে শুধু তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভর না করে চামড়া, ওষুধ, কৃষিপ্রক্রিয়াজাত ও প্রকৌশল পণ্যের মতো সম্ভাবনাময় খাতকে এগিয়ে নিতে হবে। একই সঙ্গে উৎপাদন ব্যয় কমানো, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ, বন্দর ও কাস্টমসের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নতুন বাজারে প্রবেশের উদ্যোগ জোরদারের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
রপ্তানি বাজারের দিক থেকে জুলাইয়েও যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। এরপর রয়েছে জার্মানি ও যুক্তরাজ্য। প্রধান বাজারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ভারতে; সৌদি আরবেও রপ্তানি বেড়েছে।