ভেনেজুয়েলার তেল খাতের বাস্তব অবস্থা তুলে ধরে লিপো বলেন, এই খাত টিকিয়ে রাখতে বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন। তিনি জানান, প্রায় ৩০ বছর আগে ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন দৈনিক ৩০ লাখ ব্যারেলের বেশি ছিল। বর্তমানে তা নেমে এসেছে এক মিলিয়ন ব্যারেলেরও নিচে। তার মতে, ‘তেল উৎপাদন স্থাপনা ও অবকাঠামোর অবস্থা এতটাই নাজুক যে উৎপাদন ধরে রাখতেই বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন। তবুও আমরা দেখছি, উৎপাদন ক্রমাগত কমছে।’
এই বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রের সামনে বড় প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। লিপোর ভাষায়, ‘প্রথম প্রশ্ন হলো—ভেনেজুয়েলায় কে এই বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করবে? আর কত দ্রুত তা করা হবে? বিশেষ করে যখন একটি দীর্ঘ সময় ধরে মাটিতে আসলে কারা ক্ষমতায় থাকবে, তা নিয়েই অনিশ্চয়তা রয়েছে।’
এদিকে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ভেনেজুয়েলায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন নিয়ে কথা বলা এক ভেনেজুয়েলান কর্মকর্তার বরাতে এই তথ্য দিয়েছে পত্রিকাটি। নিহতদের মধ্যে বেসামরিক মানুষ ও সামরিক সদস্য—দু’পক্ষই রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন এক বিমান হামলায় কারাকাস বিমানবন্দরের পশ্চিমে দরিদ্র উপকূলীয় এলাকা ক্যাটিয়া লা মার পাড়ার একটি তিনতলা আবাসিক ভবন সরাসরি আঘাতপ্রাপ্ত হয়। ওই হামলায় ৮০ বছর বয়সী রোসা গঞ্জালেস ও তার পরিবারের সদস্যরা নিহত হন। একই ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
হামলায় আহত রোসা গঞ্জালেসের ভাতিজা উইলমান গঞ্জালেস নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, বাড়ি হারানোর পর তিনি কোথায় যাবেন—এ প্রশ্নে তাঁর জবাব ছিল, ‘আমি জানি না।’
এ ছাড়া ৭০ বছর বয়সী এক প্রতিবেশী জর্জ জানান, বিমান হামলায় তিনি তাঁর ‘সবকিছু’ হারিয়েছেন।
